• শুক্রবার ২১শে জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ ৭ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

    শিরোনাম

    স্বপ্নচাষ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করতে ক্লিক করুন  

    হাসি ফুটেছে ফুলচাষিদের মুখে

    স্বপ্নচাষ ডেস্ক

    ১৭ ডিসেম্বর ২০২১ ৩:৪৮ অপরাহ্ণ

    হাসি ফুটেছে ফুলচাষিদের মুখে

    ফুলের রাজ্যখ্যাত যশোরের গদখালী। এ এলাকার কৃষক আলমগীর হোসেন। গত দুই বছর মোটেও ফুল বিক্রি করতে পারেননি তিনি। এ বছর বুদ্ধিজীবী দিবস আর বিজয় দিবসে লক্ষাধিক টাকার ফুল বিক্রি করেছেন। ফুল বিক্রি করে ভালো দাম পাওয়ায় তার মুখে হাসি ফুটেছে।

    তিনি জানান, কোভিড-১৯ পরিস্থিতির কারণে কিছু দিন আগেও ফুল চাষিদের গলার ফাঁস হয়ে তাদের সব স্বপ্ন কেড়ে নিয়েছিল। চলতি বছরে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস ও মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে ফুলের ব্যাপক চাহিদা ও ভালো দাম থাকায় সেই ফাঁস এখন চাষিদের গলার মালা হয়ে উঠেছে।

    জানা গেছে, দুই দিবস ঘিরে আগের তুলনায় বেচাকেনা বেড়েছে গদখালীর ফুল বাজারে। চাহিদা বেশি থাকায় আগের বাজারদর থেকে বেশি দামে ফুল বিক্রি হয়েছে। প্রতিদিন ভোরে ফুলের হাট বসে গদখালীতে। গত তিন দিনে বাজারটিতে দেড় কোটি টাকার ফুল বিক্রি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হয়েছে গাঁদা ফুল।

    বুধবার বাজারে প্রতি হাজার গাঁদা ফুল বিক্রি হয়েছে ৮০০-৯০০ টাকা দরে। যা আগে ছিল দেড়শ’ থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ২৫০-৩০০ টাকা। একেকটি গোলাপ বিক্রি হয়েছে ৪-৬ টাকায়, যা আগে ছিল দেড় থেকে ২ টাকা। রজনীগন্ধা একেকটি বিক্রি হয়েছে সাড়ে ৮ থেকে ১০ টাকায়, যা আগে ছিল ৭-৮ টাকা। রঙিন গ্লাডিউলাস প্রতিটি মান ভেদে বিক্রি হয়েছে ৬-১৫ টাকায়, যা আগে ছিল ৩-৬ টাকা। জারবেরা বিক্রি হয়েছে ১২-১৪ টাকায়, যা আগে দাম ছিল ৬-৮ টাকা। ফুল বাঁধার জন্য কামিনীর পাতা বিক্রি হয়েছে ৬০ টাকা আঁটি, যা আগে ছিল ৩০-৩৫ টাকা। জিপসির আঁটি বিক্রি হয়েছে ৩০-৪০ টাকা। যা আগে বিক্রি হতো ২০-২৫ টাকায়।

    ফুলচাষিরা জানিয়েছেন, মাস খানেক আগ থেকে বর্তমানে প্রতিটি ফুল দ্বিগুন দামে বিক্রি হচ্ছে। আসছে ১৩ ফেব্রুয়ারি পয়লা ফাল্গুন, ১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালোবাসা দিবস, ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও মহান শহীদ দিবস এবং ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের আগ মুহূর্তে ফুলের দাম আরও ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষকরা প্রায় দুই বছরের করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি ও ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের সারা বছরের ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নিতে পারবেন বলে তারা আশা করছেন।

    পানিসারার পটুয়াপাড়া গ্রামের ফুল চাষি আলমগীর হোসেন বলেন, করোনার কারণে গত বছর এই সময়ে ১০ হাজার টাকার ফুলও বিক্রি করতে পারেনি। এবার ১৫ কাটা জমির জারবেরা আর দেড় বিঘা জমির গাঁদা থেকে এই দুই দিবসে ৫০ হাজার টাকার ফুল বিক্রি করতে পেরেছি। করোনায় সারা বছর ফুল বিক্রি ছিল না। আশা করছি, সামনের চারটি অনুষ্ঠানে গত বছরের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারব।

    হাড়িয়া গ্রামের কৃষক মোখলেছুর রহমান বলেন, দেড় বিঘা জমিতে চীনের লংস্টিক রোজ জাতের গোলাপ ফুলের চাষ এ অঞ্চলে আমিই প্রথম শুরু করেছিলাম। করোনা পরিস্থিতিতে ফুল বিক্রি হয়নি। বাগান পরিচর্যায় খরচও বাড়ছিল। যে কারণে বাগান পরিচর্যা অনেকটা বাদ দিয়েছিলাম। এবার করোনা পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় ফুল চাষ শুরু করি। ডিসেম্বর থেকে ফুলের চাহিদা বেড়েছে। সেইসঙ্গে আগের চেয়ে দামও বেড়েছে কয়েকগুণ। বিজয় দিবস উপলক্ষে ৭০ হাজার টাকার মতো ফুল বিক্রি হয়েছে। এ বছর ফেব্রুয়ারি মাসে দুই লাখ টাকার গোলাপ ও দেড় লাখ টাকার চীনের লং স্টিক ফুল বিক্রি হবে বলে আশা করছি।

    হাঁড়িয়া গ্রামের আশরাফ হোসেন বলেন, ১৭ কাঠা জমির গাঁদা ফুল বিক্রি করেছি ৭০ হাজার টাকায়। গত বছর মে মাসে আম্ফানের সময় একই খেতে গাঁদা ফুল চাষ করেছিলাম। তখন মাত্র দুশ টাকার ফুল বিক্রি করতে পেরেছি।
    বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির (বিএফএস) কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুর রহিম বলেন, যশোর জেলার আট উপজেলায় ১০ হাজার হেক্টর জমিতে ফুলের চাষ হয়। তার মধ্যে ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালী-পানিসারার প্রায় সাড়ে ৫ হাজার কৃষক ৬ হাজার হেক্টর জমিতে ফুলের আবাদ করছেন। প্রায় দুই বছর ধরে করোনাভাইরাস, লকডাউন, আম্ফানে ফুলচাষিরা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। গত তিন দিনে দেড় কোটি টাকার ফুল বিক্রি হওয়ায় চাষিদের মুখে হাসি ফুটেছে।

    স্বপ্নচাষ/একে

    Facebook Comments Box

    বাংলাদেশ সময়: ৩:৪৮ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২১

    swapnochash24.com |

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
    ১০১১১২১৩১৪
    ১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
    ২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
    ২৯৩০৩১  
    advertisement

    সম্পাদক : এনায়েত করিম

    প্রধান কার্যালয় : ৫৩০ (২য় তলা), দড়িখরবোনা, উপশহর মোড়, রাজশাহী-৬২০২
    ফোন : ০১৫৫৮১৪৫৫২৪ email : swapnochash@gmail.com

    ©- 2022 স্বপ্নচাষ.কম কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত।