• শুক্রবার ২২শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ৬ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

    শিরোনাম

    স্বপ্নচাষ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করতে ক্লিক করুন  

    সুন্দর হোক শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্ক

    স্বপ্নচাষ ডেস্ক

    ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২১ ৬:০৭ অপরাহ্ণ

    সুন্দর হোক শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্ক

    এ রকম একটা কথা প্রচলিত আছে যে ‘দুধ না খেলে হবে না ভালো ছেলে।’ এখন হয়তো নতুন করে বলতে হবে ‘চুল না কাটলে আর জুতা না পরলে হবে না ভালো ছেলে!’

    গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা গেছে, সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ শিক্ষার্থী শিক্ষকের কথামতো চুল না কেটে ক্লাসে আসায় তাঁদের মাথার চুল কেটে দিয়েছেন এক শিক্ষক। অপমান সহ্য করতে না পেরে এক ছাত্র আত্মহত্যার চেষ্টা করে এখন হাসপাতালের আইসিইউতে আছেন।

    শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের ফলে সেই শিক্ষক প্রশাসনিক দায়িত্ব ছেড়েছেন। কিন্তু একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এমন কাজ করবেন কেন যে কারণে দায়িত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিতে হয়? বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের পক্ষ থেকে আমরা তো একটু বিবেচনা বোধ আশা করতেই পারি।

    এদিকে স্কুলড্রেসের সঙ্গে নির্দিষ্ট জুতা (কেড্স) পরে না আসায় বাগেরহাটের মোংলার সেন্ট পলস্ স্কুলের ক্লাস থেকে শতাধিক ছাত্রছাত্রীকে বের করে দিয়েছেন প্রধান শিক্ষক। করোনায় দেড় বছর বন্ধ থাকার পর স্কুল খুললে ড্রেসকোডে ব্যত্যয় ঘটে। কিছু শিক্ষার্থী কেডসের বদলে স্যান্ডেল পরে স্কুলে আসে।

    মূলত আগের কেড্স ব্যবহার অনুপযোগী হওয়ার পর অনেক অভিভাবকই করোনাকালে অসচ্ছলতার কারণে নতুন কেড্‌স কিনে দিতে পারেননি।

    দুটি খবরই হতাশার। শিক্ষক তাঁর শিক্ষার্থীদের মন জয় করবেন তাঁর ব্যক্তিত্ব, মানবীয় সুন্দর আচরণ ও মূল্যবোধ জাগিয়ে। শিক্ষার্থীর সঙ্গে শিক্ষকের সম্পর্ক হবে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, বিশ্বাস ও স্নেহের। বড় চুল দেখতে অসুন্দর হলে এটা তাঁদের বোঝাতে হবে।

    অথচ ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে যা ঘটেছে তা শিক্ষকসুলভ তো নয়ই; বরং তা ছাত্রদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা জাগাবে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মধ্যে বৈরিতা তৈরি হবে। শিক্ষার্থীরা ভালো কিছু শেখার বদলে, শিক্ষককে বন্ধু না ভেবে মানসপটে তাঁর প্রতি শত্রুভাবাপন্ন মনোভাব জাগিয়ে রাখবেন।

    এটা তো বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটেছে। এ ধরনের মধ্যযুগীয় পদ্ধতিতে শিষ্টাচার শেখানোর সংস্কৃতি কোনো স্কুলেও চলতে পারে না। শিক্ষার্থীরা ভুল করতে পারে, তাদের আদর-স্নেহে কিংবা এর খারাপ দিকগুলো তুলে ধরে সংশোধন করে দিতে হবে।

    আবার যে স্কুলের শিক্ষার্থীদের জুতা নেই বলে স্কুল থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে, সেটাও সুন্দর হয়নি। ঠিক আছে, স্কুলে নিয়মমতো ড্রেসকোড মেনে আসতে হবে; এটা সব শিক্ষার্থীরই মানা উচিত। কিন্তু করোনাকালে মানুষের আয় কমেছে। অনেকে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। এসব কারণে অনেকে হয়তো সময়মতো ড্রেসকোডের কিছু ব্যত্যয় ঘটিয়েছে। তাদের পরিস্থিতিও মাথায় রাখতে হবে।

    এ সংকটে সবার সমস্যাগুলো বুঝতে হবে। সব সময় সব আচরণ করা যায় না। এমন সমস্যা নিশ্চয়ই অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঘটছে। সবারই বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখতে হবে। শিক্ষার্থীদের মনোজগতে বিরূপ ধারণা তৈরি হয়—এমন কিছু করা উচিত নয়। সব শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মধ্যে গড়ে উঠুক সুন্দর সম্পর্ক।

    স্বপ্নচাষ/একে

    Facebook Comments Box

    বাংলাদেশ সময়: ৬:০৭ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২১

    swapnochash24.com |

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫
    ১৬১৭১৮১৯২০২১২২
    ২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
    ৩০৩১  
    advertisement

    সম্পাদক : এনায়েত করিম

    প্রধান কার্যালয় : ৫৩০ (২য় তলা), দড়িখরবোনা, উপশহর মোড়, রাজশাহী-৬২০২
    ফোন : ০১৫৫৮১৪৫৫২৪ email : swapnochash@gmail.com

    ©- 2021 স্বপ্নচাষ.কম কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত।