• বুধবার ২৭শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ১৩ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

    শিরোনাম

    স্বপ্নচাষ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করতে ক্লিক করুন  

    সাঁকো দিয়ে পার হতে হয় এই সেতু

    স্বপ্নচাষ ডেস্ক

    ০৮ জানুয়ারি ২০২১ ৭:১৫ অপরাহ্ণ

    সাঁকো দিয়ে পার হতে হয় এই সেতু

    ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলায় ঝুঁকি নিয়ে সেতু পার হয় এলাকাবাসী

    সেতু পারাপার হতে হয় বাঁশের সাঁকো দিয়ে। খসে পড়ছে কংক্রিটের সেতুর বিভিন্ন অংশ। কিন্তু হলো না সংযোগ সড়ক। এমন সেতু রয়েছে ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলায়। তবে সেতুটি কারা করেছিল, তা নিয়ে ধোঁয়াশায় এলজিইডি ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন দপ্তর। দ্রুত সেতুটি সংস্কার করে চলাচল উপযোগী করে দেওয়ার দাবি স্থানীয়দের।

    উপজেলার দক্ষিণ মাইজপাড়া ইউনিয়নে বাকপাড়া ও বল্লবপুর গ্রামের রাস্তায় মক্রমের খালের ওপর নির্মিত হয় সেতু। ২০১০-১১ অর্থবছরে তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যান সেলিম মির্জার তত্ত্বাবধানে সেতুটি নির্মিত হয়। সে সময় সংযোগ সড়ক হলেও বছরখানেকের মাথায় বন্যার পানির স্রোতে ভেঙে যায় সংযোগ সড়ক। সেই থেকে সেতুটি পারাপারে দুই পাশে প্রয়োজন হয় বাঁশের সাঁকো।

    সংযোগ সড়কবিহীন সেতুটির কংক্রিটের বিভিন্ন অংশ ইতোমধ্যে খসে পড়তে শুরু করেছে। তবুও সেতু দিয়ে পারাপার হচ্ছেন রামনাথপুর, বাকপারা, বলরামপুর, রায়পুর, কাশিপুর, দক্ষিণ মাইজপাড়া, গিলাগড়া, পূর্ব লাঙ্গলজোড়াসহ অন্তত ১০ গ্রামের মানুষ। এলাকাবাসী নিজেদের উদ্যোগে বাঁশ সংগ্রহ করে খালের তলদেশ থেকে প্রায় ২০ ফুট উঁচু দিয়ে রাস্তার সঙ্গে সংযোগ ঘটিয়েছেন, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক।

    কংক্রিটের সেতু নির্মিত হলেও সংযোগ সড়কের অভাবে গ্রামগুলোর মানুষকে দুর্ভোগ নিয়ে চলাচল করতে হয়। সীমান্ত অঞ্চলের অনুন্নত এ জনপদে মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে উদ্যোগ নেই সংশ্নিষ্টদের। বাকপাড়া গ্রামের হারিছ মিয়া বলেন, তাদের কথা চিন্তা করেই সেতু হয়েছে। কিন্তু সেতু পার হতে বাঁশের সাঁকো বানাতে হয়েছে তাদের। পাকা সেতু পার হতে হয় বাঁশের সাঁকো দিয়ে। এ অবস্থার পরিত্রাণ চান তারা।

    কাশিপুর গ্রামের আবদুল কুদ্দুস বলেন, ‘পাক্কা ব্রিজ কইরা ফালায়া থইয়া গেছে। কিবায় পার অইবো হেইডার বাউ নাই।’ গিলাপাড়া গ্রামের আবদুর রশিদ বলেন, পাকা সেতুতে উঠতে বাঁশের সাঁকো লাগে। তাদের দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত স্থায়ী সংযোগ সড়ক নির্মাণের দাবি জানান তিনি।

    দক্ষিণ মাইজপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুল হক বলেন, গ্রামের মানুষের চলাচলের সুবিধার জন্য ২০১০-১১ সালে তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যানের তত্ত্বাবধানে সেতুটি নির্মিত হয়েছিল। কিন্তু বন্যার পানিতে সংযোগ সড়ক ভেঙে যায়। ওই অবস্থায় সেতুর দুই পাশে বাঁশের সাঁকোতে পার হতে হয়। এতে মানুষের স্বাভাবিক চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে।

    উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ইশতিয়াক হোসেন উজ্জ্বল বলেন, সেতু হলেও সড়ক না হওয়া দুঃখজনক। সেতুটি তাদের দপ্তরের কিনা, তা তিনি জানেন না। তবে বুধবার সেতুটি সরেজমিন পরিদর্শন করবেন। তাদের হয়ে থাকলে দ্রুত চলাচল উপযোগী করে দেওয়া হবে।

    স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর-এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহীনূর ফেরদৌস বলেন, সেতুটি ২০১০-১১ সালে নির্মিত হয়েছে, শুনেছেন। কিন্তু এটি তাদের দপ্তর, না অন্য কোনো দপ্তর করেছে, সে বিষয়ে কোনো নথি তাদের দপ্তরে নেই। গ্রামীণ সড়কটিতে নির্মিত সেতুটি চলাচল উপযোগী করতে আপাতত তাদের উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ নেই। তবে প্রকল্প বাস্তবায়ন দপ্তর চাইলে মাটির রাস্তা করে দিতে পারে।

    ধোবাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাফিকুজ্জামান বলেন, সেতুটি কীভাবে হয়েছে, কারা করেছে, সে বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হবে। সেতুটি চলাচল উপযোগী করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    স্বপ্নচাষ/একে

    Facebook Comments

    বাংলাদেশ সময়: ৭:১৫ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ০৮ জানুয়ারি ২০২১

    swapnochash24.com |

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫
    ১৬১৭১৮১৯২০২১২২
    ২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
    ৩০৩১  

    সম্পাদক : এনায়েত করিম

    সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: গুরুদাসপুর, নাটোর-৬৪৩০
    ফোন : ০১৫৫৮১৪৫৫২৪ email : swapnochash@gmail.com

    ©- 2021 স্বপ্নচাষ.কম কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত।