• বৃহস্পতিবার ২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ১২ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

    শিরোনাম

    স্বপ্নচাষ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করতে ক্লিক করুন  
    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অব্যাহত ছুটি

    শিক্ষা ও স্বাস্থ্য দুটিই জরুরি

    সম্পাদকীয়

    ১৭ জানুয়ারি ২০২১ ৪:৩১ অপরাহ্ণ

    শিক্ষা ও স্বাস্থ্য দুটিই জরুরি

    চলমান করোনা মহামারির কারণে দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চলমান ছুটি ইতোমধ্যে ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। গত বছর দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার কয়েকদিন পর ১৭ মার্চ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। এ বিষয়ে কারও দ্বিমত নেই যে, করোনা সংক্রমণ থেকে সুরক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের নিজ বাসস্থানে অবস্থান করা জরুরি। তারা যাতে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে এ বিষয়ে অভিভাবক, শিক্ষক এবং স্থানীয় প্রশাসনকে বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে।

    পাশাপাশি শিক্ষার ক্ষতি কীভাবে পুষিয়ে নেওয়া যায়, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের ভাবতে হবে। আগামী কিছুদিনের মধ্যে দেশে করোনার টিকাপ্রদান শুরু হলেও শিশুদের কতদিন পর টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনা হবে কিংবা আদৌ আনা হবে কিনা তা এখনো অনিশ্চিত। কাজেই শিশু শিক্ষার্থীদের যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিকল্প নেই। উদ্বেগজনক বিষয় হলো, শিশুরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছে কিনা, এ নিয়ে অনেক অভিভাবকই উদাসীন। এছাড়া অভিভাবকরা স্বাস্থ্যবিধি না মেনে শিশুদের উপদেশ দিলে তারা তা কতটা মেনে চলবে, এটাও এক প্রশ্ন। কোনো কোনো শিক্ষক স্বপ্রণোদিত হয়ে শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর নেন। কিন্তু এমন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষকের সংখ্যা যে খুব কম, তা বলাই বাহুল্য।

    সম্প্রতি বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে নতুন বই প্রদান করা হয়েছে। এসব বই পড়া শুরুর আগে শিক্ষার্থীদের কী ধরনের সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে, তা তাদের জানাতে হবে। করোনা প্রতিরোধে যেসব স্বাস্থ্যবিধির ওপর বিশেষভাবে গুরুত্ব দিতে হয় সে সম্পর্কিত তথ্য যেসব শিক্ষক কম জানেন; তারা যাতে সহজে সে ঘাটতি পূরণ করে শিক্ষার্থীদের জানাতে পারেন সেজন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। স্থানীয় প্রশাসন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্টদের সমন্বয়ে এসব সমস্যা দূর করা সম্ভব।

    করোনা পরিস্থিতির কারণে ইতোমধ্যে অনেক পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। কিছুদিন পর যদি সীমিত পরিসরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া সম্ভব হয়ও, তারপরও প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হতে কিছুটা দেরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। করোনা পরিস্থিতির কারণে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকায় অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চালু করেছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সাময়িকভাবে উপকৃত হলেও দীর্ঘ সময় এ ধরনের কার্যক্রমে যুক্ত রাখা হলে তা তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ফেলবে কিনা, এটাও এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। শিশুদের স্মার্টফোন থেকে দূরে রাখতে বিশেষজ্ঞরা সব সময় বলে আসছেন। স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি করে এমন কোনো কার্যক্রম যেন কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ সময় চলমান না থাকে, এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে সজাগ থাকতে হবে।

    দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষাক্ষেত্রে যে ক্ষতি হয়েছে এবং হচ্ছে, তা কাটিয়ে ওঠার জন্য শিক্ষাবিদসহ সংশ্লিষ্টদের পরামর্শে একটি কার্যকর উপায় খুঁজে বের করা জরুরি। উচ্চশিক্ষা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন অনেক শিক্ষার্থী রয়েছেন, যারা আর কিছুদিন পরই শিক্ষা শেষে কর্মজীবনে প্রবেশের প্রত্যাশায় রয়েছেন। এ ধরনের শিক্ষার্থীদের পাঠদান সম্পন্ন করে পরীক্ষা নেওয়ার পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। সেক্ষেত্রেও একটি উপায় খুঁজে বের করতে হবে।

    Facebook Comments

    বাংলাদেশ সময়: ৪:৩১ অপরাহ্ণ | রবিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২১

    swapnochash24.com |

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২
    ১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
    ২০২১২২২৩২৪২৫২৬
    ২৭২৮  

    সম্পাদক : এনায়েত করিম

    প্রধান কার্যালয় : ৫৩০ (২য় তলা), দড়িখরবোনা, উপশহর মোড়, রাজশাহী-৬২০২
    ফোন : ০১৫৫৮১৪৫৫২৪ email : swapnochash@gmail.com

    ©- 2021 স্বপ্নচাষ.কম কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত।