• বৃহস্পতিবার ২৬শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ ১১ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

    শিরোনাম

    স্বপ্নচাষ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করতে ক্লিক করুন  

    রাবির বুদ্ধিজীবী স্মৃতিফলক নির্মাণ দুর্নীতিতে জড়িতদের শাস্তি দাবি

    এনায়েত করিম

    ২৬ অক্টোবর ২০২০ ৯:০৭ অপরাহ্ণ

    রাবির বুদ্ধিজীবী স্মৃতিফলক নির্মাণ দুর্নীতিতে জড়িতদের শাস্তি দাবি

    রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ‘শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিফলক’ নির্মাণে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি দাবি করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল ছাত্র-শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ। সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সিনেট ভবন চত্বরে আয়োজিত মানববন্ধনোত্তর সমাবেশ থেকে এ দাবি জানান তারা।

    স্মৃতিফলকের নিচের দিকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের প্রতিকৃতি সংযুক্ত করে বঙ্গবন্ধুকে চরম অবমাননা করা হয়েছে দাবি করে সমাবেশে বক্তারা বলেন, এভাবে বঙ্গবন্ধুকে অবমাননাকারীদের যথাযথ বিচারের মুখোমুখি করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাদের স্থায়ীভাবে বরখাস্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিরও দাবি জানানো হয়।

    সংশ্নিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২১ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৫৯তম সিন্ডিকেট সভায় শহীদ তিন শিক্ষক হবিবুর রহমান, মীর আব্দুল কাইয়ুম ও সুখরঞ্জন সমাদ্দার স্মরণে একটি বুদ্ধিজীবী স্মৃতিফলক নির্মাণের সিদ্ধান্ত পাস হয়। স্মৃতিফলকটির নির্মাণ প্রস্তুতকল্পে ভূততত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মুশফিক আহমদকে আহ্বায়ক করে কমিটি গঠন করেন তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক মিজানউদ্দিনের প্রশাসন। ২০১৬ সালের ২৬ জানুয়ারি তৎকালীন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী সারওয়ার জাহানকে স্মৃতিফলক নির্মাণ কাজের সমন্বয়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়। একই বছরের ৬ আগস্ট ১১ সদস্যের একটি নির্মাণ কমিটি করা হয়। যার প্রধান ছিলেন ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম।
    এই কাজের শুরু থেকে কমিটির বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। একইসঙ্গে বুদ্ধিজীবী স্মৃতিফলক নামে তৈরি হলেও এতে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়। যেখানে তিন বুদ্ধিজীবীকে ওপরে এবং মূল নকশার বাইরে গিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রিলিফ ভাস্কর্য বাম দিকে তুলনামূলক নিচে স্থাপন করা হয়। এরপর থেকেই বঙ্গবন্ধুকে অবমাননাসহ এটি নিয়ে আরও বিতর্ক শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৭ সালের ৩১ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৭৩তম সিন্ডিকেট সভায় ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহানের প্রশাসন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদনও জমা দেয়।

    প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, স্মৃতিফলক নির্মাণের জন্য ২০১৭ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৭০তম সিন্ডিকেট সভায় ৮২ লাখ ৬৫ হাজার ১৬১ টাকা অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে স্মৃতিফলকের জন্য খোলা ব্যাংক হিসাবে ৭৬ লাখ ৫৮ হাজার ৯১৫ টাকা জমা হয়। ১৯টি চেকের মাধ্যমে জমা হওয়া টাকার মধ্যে ৭৬ লাখ ৪৮ হাজার ৪১৫ টাকা তোলেন নির্মাণ কমিটির ১ নম্বর সদস্য অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম। ওই টাকা ব্যয়ের সঠিক বিল বা ভাউচার তদন্ত কমিটিকে দেখাতে পারেননি অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম। এ ছাড়া সিন্ডিকেট সভায় প্রতি ১০ লাখ টাকা উত্তোলনের পর সেসব বিল-ভাউচার অর্থ দপ্তরের মাধ্যমে সমন্বয় করে পরবর্তী চাহিদাপত্র দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হলেও অধ্যাপক সুলতান তা করেননি।

    অনুসন্ধানে জানা যায়, শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিফলকে এক হাজার ৪০০ কেজি তামা ব্যবহারের কথা ছিল, যার মূল্য ১৪ লাখ টাকা। অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম সাড়ে ৮ লাখ টাকা দিয়ে মাত্র ৮৫০ কেজি তামা কেনেন। এর মধ্যে আবার ২০-২৫ শতাংশ ওয়েস্টেস দেখানো হয়েছে। কাস্টিংয়ের সময় নষ্ট হয়েছে আরও ১২০ কেজি এবং অন্যান্যভাবে নষ্ট হয়েছে ২৬ কেজি। ফলে স্মৃতিফলকটিতে ৪৯২ কেজি তামা ব্যবহার করা গেছে, যার মূল্য চার লাখ ৯২ হাজার টাকা। এ ছাড়াও তিন লাখ ৬০ হাজার টাকার টেম্পার্ড গ্লাস ব্যবহার করার কথা থাকলেও সেটি ব্যবহারের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

    এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক এম. আব্দুস সোবহান বলেন, শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিফলক নির্মাণেও তারা দুর্নীতি করেছে। বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক চলায় আমি দায়িত্ব গ্রহণের পর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করি। তদন্তে দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। যার ফলে স্মৃতিফলকটির কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। অথচ যে ২৫টি অভিযোগ ইউজিসি প্রমাণ পেয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যম প্রকাশ করেছে তার মধ্যে এই স্মৃতিফলকে কাজ আটকে রাখার বিষয়টিও রয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিফলক নির্মাণ দুর্নীতিতে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। সেই তদন্তে বাধা প্রদান করতেই তারা আমার বিরুদ্ধে নানা রকম মিথ্যা অভিযোগ দিচ্ছে।

    এদিকে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিফলক নির্মাণে দুর্নীতি ও বঙ্গবন্ধুকে অবমাননায় জড়িতদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করার দাবিতে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক মিজান-স্বজল প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিফলক নির্মাণে ৮০ লাখ টাকা তছরুফ করেছেন। তদন্ত করে এর প্রমাণও মিলেছে। একই সাথে তারা প্রথমে প্রণয়ন করা নকশা বদল করে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি নিচে যুক্ত করেছেন। যার মধ্য দিয়ে স্পষ্টভাবে জাতির পিতাকে অবমাননা করা হয়েছে। স্মৃতিফলক নির্মাণ ও বঙ্গবন্ধুকে অবমাননায় জড়িতদের অবিলম্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি থেকে স্থায়ী বরখাস্তের দাবি জানান তারা।

    সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতরের সাবেক প্রশাসক অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন মিশ্র, দর্শন বিভাগের অধ্যাপক এসএম আবু বকর, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম প্রাধ্যক্ষ পরিষদের আহ্বায়ক ও সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক রবিউল ইসলাম, সহকারী প্রক্টর ও চারুকলা অনুষদের সহযোগী অধ্যাপক হুমায়ন কবীর, ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক গোলাম সারওয়ার, ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শাওন উদ্দিন, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ইলিয়াস আলী, বঙ্গবন্ধু প্রজন্মলীগের রাবি শাখার সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন প্রমুখ।

    মানববন্ধনোত্তর সমাবেশ সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এম.ফিল-এর ফেলো মতিউর রহমান মর্তুজা।

    স্বপ্নচাষ/একে

    Facebook Comments

    বাংলাদেশ সময়: ৯:০৭ অপরাহ্ণ | সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২০

    swapnochash24.com |

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩
    ১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
    ২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
    ২৮২৯৩০  

    সম্পাদক : এনায়েত করিম

    সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: গুরুদাসপুর, নাটোর-৬৪৩০
    ফোন : ০১৫৫৮১৪৫৫২৪ email : swapnochash@gmail.com

    ©- 2020 স্বপ্নচাষ.কম কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত।