• শুক্রবার ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ২রা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

    শিরোনাম

    স্বপ্নচাষ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করতে ক্লিক করুন  

    রাজশাহী বিভাগে করোনা কম হওয়ায় খুশি প্রধানমন্ত্রী

    স্বপ্নচাষ ডেস্ক

    ২৭ এপ্রিল ২০২০ ৫:৫৪ অপরাহ্ণ

    রাজশাহী বিভাগে করোনা কম হওয়ায় খুশি প্রধানমন্ত্রী

    সংগৃহীত ছবি

    দেশের অন‌্যান‌্য বিভাগ এবং জেলাগুলোর চেয়ে রাজশাহ‌ীর জেলাগুলোতে করোনাভাইরাস কম শনাক্ত হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, আপনারা সাবধান ও সতর্ক আছেন বলেই জেলাগুলো ভালো আছে। যে ক’জনই আছে আর যেন না ছড়াতে পারে সে জন‌্য আরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

    সোমবার সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে রাজশাহী বিভাগের জেলাগুলোর সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে মতবিনিময়ের সময় তিনি এ কথা বলেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, সামনে বোরোর সিজন। আজ যে কয়েকটি জেলার সঙ্গে আমি কথা বলছি তার প্রত্যেকটি জেলা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। এখানকার বোরো ধান যেন সঠিকভাবে সংগ্রহ করতে পারেন তার ব্যবস্থা আপনারা করবেন। ধান কেনাবেচা বা যে কোনো ফসল কেনাবেচায় কোনো সমস্যা যেন না হয়। প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সে বিষয়গুলো দেখবেন। কাঁচামালসহ যেকোনো পণ্য পরিবহনে কেউ যেন বাঁধা না দেয় সে বিষয়গুলো আপনারা তদারকি করবেন। আমরা এবার কৃষকের কাছ থেকে ২১ লক্ষ টন খাদ্যশস্য সংগ্রহ করব। ত্রাণ বিতরণে কোনো অনিয়ম কোথাও যাতে না হয় এ দিকগুলো আপনারা দলীয় এবং প্রশাসনিকভাবে নজরদারি করবেন। ৬৪ জেলায় ৬৪ জন সচিবকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তাদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে আপনারা কাজ করবেন। কৃষকের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকা আলাদা করে তহবিল গঠন করা হয়েছে। এগুলো থেকে ডেইরি পোলট্রি মৎস্য ও কৃষকদের লোন দেয়া হবে ২ পার্সেন্ট সুদে। তিনি ধান কাটার মৌসুমে কৃষককে ধান কাটায় সহযোগিতা করার জন্য আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, শ্রমিক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ সবার প্রতি আহ্বান জানান।

    আজ সর্বপ্রথম জয়পুরহাট জেলার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাকির হোসেনকে সংযোগ দিয়ে ভিডিও কনফারেন্সের শুরু হয়। জেলা প্রশাসক বলেন, পণ্য পরিবহনে যেন বাধা সৃষ্টি না হয়, ত্রাণ কাজে যেন কোনো সমস্যা না হয় সেজন্য আমরা সবাই সমন্বয় করে কাজ করছি। জয়পুরহাট খাদ্যে উদ্বৃত্ত একটি জেলা বোরো ধান কাটার পর পর আবার কী ধান এখানে আবাদ করা যাবে সেজন্য আগে থেকেই প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।

    এরপর বগুড়া জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহমেদ বলেন, এ জেলায় ১৭ জন করোনাভাইরাস রোগী শনাক্ত হয়েছে। এরা সবাই ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ থেকে এসেছেন। এ জেলায় আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ধান কাটা শুরু হবে। এখানকার স্বাস্থ্যকর্মী, ডাক্তার সবাই অত্যন্ত সচেতন আছেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনাদের স্বাস্থ্যসেবার দিকে সবচেয়ে বেশি নজর দিতে হবে। আমরা পর্যায়ক্রমে দুই হাজার ডাক্তার এবং ছয় হাজার নার্স নিয়োগ দিব। করোনাভাইরাস সম্পর্কে এবং যারা আইসিইউ দেখাশোনা করবেন তাদের বিশেষ ট্রেনিং দেয়া হবে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, বগুড়া একসময় শিল্প-কারখানায় সমৃদ্ধ ছিল, এখনো কিছু কিছু আছে। তবে কৃষিনির্ভর বেশি। কৃষির ওপর আরও অনেক গুরুত্ব দিতে হবে।

    এরপর সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক তারেক আহমেদ জেলার ত্রাণ বিতরণ, স্বাস্থ‌্যব‌্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাসহ বিস্তারিত তথ্য প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, সিরাজগঞ্জ শহরকে আপনারা ভালো রেখেছেন। এখানে যেন আর কোনো রোগী শনাক্ত হতে না পারে সেজন্য আপনারা সতর্ক থাকবেন। জেলাকে ভালো রাখার জন্য তিনি সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

    এরপর সংযোগ দেয়া হয় পাবনা জেলা প্রশাসক কবির আহমেদকে। তিনি বলেন, পাবনা জেলায় দু’জন করোনা রোগী পাওয়া গেছে। তাদের চিকিৎসা চলছে। এখানে আমরা সবাই মিলে ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছি। এছাড়া বাজারে যেন কেউ ভিড় জমাতে না পারে সেজন্য ভ্যানে কাঁচামাল এলাকায় এলাকায় বিক্রি করার ব্যবস্থা করেছি।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা দেখতে পাচ্ছি এই অঞ্চলে যারাই করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন তারা নারায়ণগঞ্জ এবং ঢাকা থেকে এসেছেন। তিনি পাবনা ও সিরাজগঞ্জের কথা উল্লেখ করে বলেন, এ দুটি জেলা দুগ্ধ উৎপাদনকারী জেলা। এখানকার দুধ ফেলে না দিয়ে খামারীদের কাছ থেকে কিনে ত্রাণ হিসেবে আপনারা বাচ্চাদের দিলে বাচ্চাদের পুষ্টি হবে।

    তিনি বলেন, রূপপুর প্রকল্পে বিদেশিরা যারা আসছে তাদের কোয়ারেন্টাইনে রেখে তারপর তাদেরকে কাজ করার সুযোগ দেবেন।

    এরপরে সংযোগ দেয়া হয় চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক এ জেড এম নুরুল হককে। তিনি বলেন, এ জেলায় এখন পর্যন্ত দু’জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন এবং এ জেলায় কোনো মৃত্যু নেই। এখানকার সোনামসজিদ স্থল বন্দরের যাতায়াত বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। আমাদের এখানে খাদ্যের কোনো সংকট নেই।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা চাঁপাইনবাবগঞ্জকে করোনামুক্ত রেখেছেন এ জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। সতর্ক থাকবেন আর যেন না আক্রান্ত হয়। দু’জন করোনা আক্রান্ত হয়েছে সে দুজন সুস্থ হয়ে উঠুক সেই দোয়া আমি করি।

    এরপর সংযোগ দেয়া হয় নওগাঁ জেলা প্রশাসক হারুন-অর-রশীদকে। তিনি বলেন, নওগাঁয় মাত্র একজন করোনাভাইরাস রোগী পাওয়া গেছে। তারপরও তারা সতর্ক রয়েছেন বাইরে থেকে যেন কেউ এসে করোনাভাইরাস ছড়াতে না পারে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, নওগাঁ খুব ভালো আছে আর যেন না ছড়ায়। এখানকার চাতালগুলোর ধান আসতে যাতে কোনো অসুবিধা না হয়। বিভিন্ন জেলা থেকে যেন খুব সহজেই এখানে ধান আসতে পারে এবং তারা যেন এই চাল সারা দেশে সরবরাহ করতে পারে সেজন্য তিনি জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেন।

    সর্বশেষ ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হন নাটোর জেলা প্রশাসক মো. শাহরিয়জে পি এ এ কে। তিনি বলেন, নাটোরে এখনো কোনো করোনা রোগী ধরা পড়ে নাই । কিন্তু আমরা বসে নেই। আমরা আপনার নির্দেশে অত্যন্ত সতর্ক অবস্থায় আছি। আর তাছাড়া নাটোরের বিভিন্ন পথঘাটে চেকিং বসিয়েছি। বাইরে থেকে যারা আসছেন তাদেরকে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না।

    জেলাপ্রশাসকের কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটা মাত্র জেলা দেখলাম যেখানে করোনা রোগী নেই। তিনি হাসতে হাসতে বলেন, বাইরের জেলাতে নাটোরের কারো শ্বশুরবাড়ি নেই? জামাইদেরকেও এখানে ঢুকতে না দেয়ায় নাটোর এখনো ভালো আছে। যাহোক নাটোর করোনা মুক্ত আছে, এটা খুব ভালো একটা খবর। এজন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানাই।

    প্রধানমন্ত্রী এখানে বক্তব‌্য রাখতে গিয়ে সেই ভিক্ষুকের উদাহরণ তুলে ধরেন বলেন, একজন ভিক্ষুক ১০ হাজার টাকা জমিয়েছিল ভিক্ষা করে। ইচ্ছা করলে সে ভালো জামাকাপড় কিনতে পারত। ভালো খেতে পারত, একটা ঘর বানাতে পারত। কিন্তু তা না করে সে এই টাকা ত্রাণ তহবিলে দান করেছেন। ওই ভিক্ষুকের কাছ থেকে আমাদের অনেক কিছু শেখার আছে। আমাদের সমাজে এমন অনেক লোক আছে যাদের অনেক বেশি আছে তারপরেও খাই খাই করে। তাদেরকে ওই ভিক্ষুকের কাছ থেকে তিনি শেখার জন্য অনুরোধ জানান।

    প্রধানমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং জেলা প্রশাসকদের উদ্দেশে বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্য যেন একেবারে থেমে না যায়। সব যেন স্থবির না হয়ে যায়। অবস্থা বুঝে আপনারা ধাপে ধাপে কল-কারখানা চালু করার নির্দেশ দেবেন। আর কৃষিকাজ যেন বাধাগ্রস্থ না হয়। এজন্য আপনারা সর্বাত্মক সজাগ থাকবেন। এক ইঞ্চি জমি যেন পড়ে না থাকে সেজন্য আপনারা ঘুরে ঘুরে কৃষকদেরকে নির্দেশনা দিবেন।

    শেখ হাসিনা বলেন, মনে রাখবেন আমাদের দেশে উদ্বৃত্ত উৎপাদন হলে পরবর্তীতে যে দেশে ঘাটতি থাকবে সে দেশের ঘাটতি আমরা মেটাতে পারব। এই করোনাভাইরাস যে মহামারি আকারে এসেছে তাতে অনেক দেশে দুর্ভিক্ষ দেখা দেবে। এই জন্য আমি সবার প্রতি অনুরোধ করছি প্রত্যেকেই কিছু না কিছু কাজ করবেন, একটা তরিতরকারির গাছ হলেও লাগাবেন।

    স্বপ্নচাষ/আরএস

    Facebook Comments Box

    বাংলাদেশ সময়: ৫:৫৪ অপরাহ্ণ | সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২০

    swapnochash24.com |

    advertisement

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    advertisement
    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০
    ১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
    ১৮১৯২০২১২২২৩২৪
    ২৫২৬২৭২৮২৯৩০  
    advertisement

    সম্পাদক : এনায়েত করিম

    প্রধান কার্যালয় : ৫৩০ (২য় তলা), দড়িখরবোনা, উপশহর মোড়, রাজশাহী-৬২০২
    ফোন : ০১৫৫৮১৪৫৫২৪ email : swapnochash@gmail.com

    ©- 2021 স্বপ্নচাষ.কম কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত।