• বৃহস্পতিবার ২২শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ৯ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

    শিরোনাম

    স্বপ্নচাষ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করতে ক্লিক করুন  
    বাঘায় পানির স্তর নেমে যাওয়ায় পানি সংকটে এলাকাবাসী

    বৃষ্টির আশায় ব্যাঙের বিয়ে দিচ্ছেন শিশুরা

    স্বপ্নচাষ প্রতিবেদক, রাজশাহী

    ০৩ এপ্রিল ২০২১ ১২:১০ পূর্বাহ্ণ

    বৃষ্টির আশায় ব্যাঙের বিয়ে দিচ্ছেন শিশুরা

    বৃষ্টির আশায় ব্যাঙের বিয়ে দিচ্ছেন শিশুরা

    চৈত্রের রাগী নির্দয় রোদে কাঠ ফাটে, সেই থেকে নাম হয়ে গেছে কাঠ-ফাটা রোদ্দুর। বর্তমান প্রেক্ষাপট ঠিক এমনই এক পর্যায়। এখন দিনের বেলা প্রচণ্ড রোদ্দুর তাপ, আর রাতে হালকা ঠাণ্ডা। অনেকেই বলছেন, এটি জলবায়ুর পরিবর্তন। আর এসব পরিবর্তনের কারণে এখন পানির স্তর অনেক নিচে নেমে গেছে। এলাকার কোন টিউবওয়েলেই ঠিকমত পানি উঠছে না! ফলে হাপিয়ে উঠছে মানুষ ও প্রাণীকূল। ক্ষতি হচ্ছে এ অঞ্চলের প্রধান অর্থকরী ফল আমসহ অনেক ফসলের।

    উপজেলার আমোদপুর গ্রামের গৃহিনী তানিয়া হাসান বলেন, আমাদের বাড়ির বাইরে একটি টিউবওয়েল এবং ভেতরে মটর চালু আছে। বাইরের টিউবওয়েলে গত ১০ দিন ধরে পানি উঠছে না। আর ভেতরে মটর চালু করলে বিগত সময়ে পানির ট্যাংক ভর্তি হতে যে সময় লাগতো-এখন তার চেয়ে তিনগুণ বেশি সময় লাগছে। এতে করে বিদ্যুতের ব্যাপক অপচয় হচ্ছে। তার মতে, অনেকদিন ধরে বৃষ্টির দেখা না মেলা এবং প্রচণ্ড রোদের কারণে এই সমস্যা দেখা দিয়েছে।

    এদিকে মরমী শিল্পী আব্বাস উদ্দীনের সেই বিখ্যাত গান “আল্লাহ মেঘ দে, পানি দে, ছায়া দেরে তুই আল্লাহ মেঘ দে’’ গান গেয়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি পানি চেয়ে ব্যাঙের বিয়ে দিচ্ছে কতিপয় শিশু। তাদের ধারণা এভাবে মানুষের বাড়ি-বাড়ি গান গেয়ে পানি মানলে বৃষ্টি হবে।

    উপজেলার তেপুকুরিয়া গ্রামের কৃষক দুলু সরকার এবং স্কুল শিক্ষক আবু সাঈদ বৃটেন বলেন, এখন ঘরে-বাইরে কোথাও যেন একটু স্বস্তি নেই। প্রখর রৌদের ফলে মাটি ফেটে চৌচির হয়ে পড়ছে। জলাশয়, খাল, বিল শুকিয়ে যাওয়ায় তরমুজ ক্ষেতে সেচ দেওয়া যাচ্ছে না। এমনকি পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় টিউবওয়েলেও পানি পাওয়া যাচ্ছে না। খরায় পুড়ছে ফসলের ক্ষেত। প্রচণ্ড রোদে কৃষকরা মাঠে কাজ করতে ভয় পাচ্ছে। এক কথায় খরা এবং তীব্র তাপদাহে সকল প্রাণীকূলের নাভিশ্বাস উঠেছে।

    বাঘা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লাহ সুলতান (জনি) বলেন, প্রতি বছর চৈত্র মাসে সূর্য থেকে যেন আগ্নেয়গিরির উদ্গীরণ ঝরে পড়ে। এতে করে হাফিয়ে উঠে মানুষ-সহ প্রাণীকূল। বর্তমানে পুকুর এবং ছোট-খাট জলাশয় গুলো শুকিয়ে যাওয়ায় বাঘা উপজেলার অনেক উচু এলাকায় পানির জন্য হাহাকার শুরু হয়েছে। অপর দিকে প্রচণ্ড রোদ্দুর তাপ এবং গরমের ফলে ঝরে পড়ছে এ অঞ্চলের প্রধান অর্থকরী ফসল আমের গুটি।

    এ ছাড়াও বোটা শুকিয়ে খসে পড়ছে গাছের লিচু। দিনভর সূর্যতাপে নুইয়ে পড়ছে গাছের পাতাও। নেতিয়ে পড়েছে সবজি। ফসলি ক্ষেত বৃষ্টির অভাবে অনেকটা ক্ষতির সম্মুখীন। এর মধ্যে বোরো ধানের ক্ষেত ফেটে একাকার। তাঁর মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে কৃষি ফসল, গবাদী পশু, মৎস্যখাতে গুরুতর ক্ষতির সম্ভাবনা সৃষ্টি হচ্ছে।

    এ বিষয়ে বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাপিয়া সুলতানা বলেন, গাছ হচ্ছে প্রকৃতির ইঞ্জিন। আজ সারা দেশব্যাপী প্রকৃতির যে রুড় প্রভাবের একমাত্র কারণই হচ্ছে জলবায়ুর নেতিবাচক পরিবর্তন। আর পরিবর্তন যদি হয় ক্ষতিকারক, তবে সেটার মোকাবেলা করতে হবে আমাদের সবাইকে। এজন্য জাতীয় ভাবে সরকারের মাধ্যমে প্রত্যেক এলাকায় বৃক্ষরোপন কর্মসূচি বাস্তবায়ন আবশ্যক বলে তিনি মন্তব্য করেন।

    স্বপ্নচাষ/একে

    Facebook Comments Box

    বাংলাদেশ সময়: ১২:১০ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২১

    swapnochash24.com |

    advertisement

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    advertisement
    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    advertisement

    সম্পাদক : এনায়েত করিম

    প্রধান কার্যালয় : ৫৩০ (২য় তলা), দড়িখরবোনা, উপশহর মোড়, রাজশাহী-৬২০২
    ফোন : ০১৫৫৮১৪৫৫২৪ email : swapnochash@gmail.com

    ©- 2021 স্বপ্নচাষ.কম কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত।