• বুধবার ২১শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ৮ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

    শিরোনাম

    স্বপ্নচাষ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করতে ক্লিক করুন  

    বায়োফ্লোক পদ্ধতির মাছ চাষে স্বপ্ন দেখছেন সইবুর

    স্বপ্নচাষ ডেস্ক

    ০২ এপ্রিল ২০২১ ১২:০১ পূর্বাহ্ণ

    বায়োফ্লোক পদ্ধতির মাছ চাষে স্বপ্ন দেখছেন সইবুর

    ভোলাহাটে বায়োফ্লোক পদ্ধতিতে মাছ চাষের দৃশ্য

    পুকুর, নদী, ধানের জমিতে মাছ চাষ না, ঘরের মধ্যে মাছ চাষ করে স্বাবলম্বী হতে চান ভোলাহাট উপজেলার ফতেপুর গ্রামের সাবেক জামবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান তোজাম্মেল হকের ছেলে সইবুর রহমান। নিম্ন মাধ্যমিক পাশ করতে পারেননি তিনি। বাবা মারা যাওয়ার পর শিক্ষা বঞ্চিত হয়ে কর্মসংস্থানের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরে নিকটতম এক শিক্ষকের পরামশে বায়োফ্লোক পদ্ধতিতে মাছ চাষের উদ্যোগ গ্রহণ করেন সইবুর। একেবারে আনাড়ি অবস্থায় নতুন এ পদ্ধতিতে মাছ চাষ করতে গিয়ে হোঁচট না খেতে হয় মর্মে বগুড়ায় প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।

    প্রশিক্ষণের পর শুরু করেন নিজ বাড়িতে বায়েফ্লোক পদ্ধতিতে মাছ চাষ। পরিত্যক্ত ৩টি ঘরে নিজস্ব ও নিকট আত্মীয়দের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে মোট ৪ লাখ টাকা দিয়ে ৭ মাস পূর্বে শুরু করেন প্রকল্পের কাজ।

    সইবুর রহমান বলেন, বাবা মারা যাওয়ার পর শিক্ষাদিক্ষা কপালে জোটেনি। রুজি রোজগারের জন্য বিভিন্ন স্থানে ছোটাছুটি করে বেড়িয়েছি। মাছ চাষ করে কমসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পুকুর লিজ নিবো কিন্তু তেমন অর্থ না থাকায় প্রশিক্ষণ নিয়ে অবশেষে বায়োফ্লোক বৈজ্ঞানিক চাষে নিজ বাড়ির ৩টি ঘরে মাছ চাষ শুরু করেছি।

    তিনি বলেন, আমার কাছে প্রকল্প করার মত টাকা-পয়সা না থাকায় আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকে টাকা ঋণ নিয়ে ৭ মাস পূর্বে প্রকল্পের কাজ শুরু করি। প্রশিক্ষণ ও নিজস্ব মেধা বুদ্ধি দিয়ে মাছ চাষ অব্যাহত রেখেছি। গত বছরের ঘর প্রস্তুত করে নভেম্বর মাসে ৩টি ঘরে মাছ ছাড়া হয়। প্রস্তুতকৃত ঘরগুলোর দৈর্ঘ্য সাড়ে ১৩ ও প্রস্থ সাড়ে ৯ ফুট। প্রত্যেক ঘরে পানি সরবরাহের সংযোগ। ২টি ঘরের ৩ ফুট ও রেনু চাষের ঘরে ২ফুট উচ্চতা পানি রয়েছে। বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে ঘর প্রস্তুত করে একটি ঘরে ৬ হাজার শিং মাছ, আরেকটি ঘরে ৬ হাজার কৈ মাছ ও অপর ঘরে দেড় লাখ সিলভার কার্প ও জাপানি রুই মাছের রেনু দেয়া আছে। এ মাছ আসছে রমজান মাসের শেষে উঠিয়ে বিক্রয় করলে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকার আয় হবে।

    তিনি আরও বলেন, মাছ চাষের পর স্থানীয় মৎস্য অফিসের কোন সহযোগিতা পায়নি। তবে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রভাষক রাব্বুল হোসেন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শাহানাজ খাতুন প্রকল্প দেখে গেছেন। আমি যে ৩টি ঘরে মাছ চাষ করছি তা পুকুরে চাষ করলে ৩০ বিঘা জমির পুকুর লাগবে। অল্প জায়গায় ঘরের মধ্যে মাছ চাষ করে স্বাবলম্বী হলে জীবন মানন্নোয়ন হবে এবং আমাকে দেখে আরো বেকার যুবকেরা উৎসাহিত হয়ে মাছ চাষ করে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে।
    তিনি সরকারি বেসরকারিি ঋণ সুবিধা দাবি করে বলেন, ঋণ সুবিধা পেলে প্রকল্প আরো বড় হবে এবং তার প্রকল্প থেকে আরো ১০জন মানুষের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে।

    সরজমিন প্রকল্পে গেলে স্থানীয় প্রভাষক শরিফুল ইসলাম বলেন, বেকার যুবকদের জন্য ঘরের মধ্যে মাছ চাষ করলে বেকারত্ব দূর হবে এবং এলাকায় অপরাধ কমে আসবে। স্থানীয়ভাবে ঋণ সুবিধা ও প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নিলে ভোলাহাট উপজেলায় মাছের চাহিদা পূরণসহ এলাকার বাইরে মাছ বাজারজাত করা সম্ভব হবে।

    স্বপ্নচাষ/একে

    Facebook Comments Box

    বাংলাদেশ সময়: ১২:০১ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ০২ এপ্রিল ২০২১

    swapnochash24.com |

    advertisement

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    advertisement
    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    advertisement

    সম্পাদক : এনায়েত করিম

    প্রধান কার্যালয় : ৫৩০ (২য় তলা), দড়িখরবোনা, উপশহর মোড়, রাজশাহী-৬২০২
    ফোন : ০১৫৫৮১৪৫৫২৪ email : swapnochash@gmail.com

    ©- 2021 স্বপ্নচাষ.কম কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত।