• সোমবার ২৬শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ১১ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

    শিরোনাম

    স্বপ্নচাষ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করতে ক্লিক করুন  

    বাঘায় আমের বাজার ঊর্ধ্বগতি, কপাল খুলেছে ব্যবসায়ীদের

    স্বপ্নচাষ প্রতিবেদক, রাজশাহী

    ০৭ জুলাই ২০২১ ১১:৩৫ পূর্বাহ্ণ

    বাঘায় আমের বাজার ঊর্ধ্বগতি, কপাল খুলেছে ব্যবসায়ীদের

    হঠাৎ দাম বেড়ে যাওয়ায় আম প্যাকেট করতে ব্যস্ত আম ব্যবসায়ীরা

    মহামারি করোনা সংকট এবং লকডাউনের কারণে ক’দিন আগেও ক্রেতা শূন্য ছিল আমের বাজার। এতে অনলাইন ব্যাসায়ীদের মধ্যে অনেকটা জোয়ার সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ করে বদলে গেছে আম বাজারের দৃশ্যপট। এখন ৬শ টাকার লকনা বিক্রি হচ্ছে ১২শ টাকা মণ, অপর দিকে ১১শ টাকার আম্রপালি বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার টাকা এবং ৮শ টাকার ফজলি বিক্রি হচ্ছে ১৫শ টাকা। ফলে কপাল খুলেছে ব্যবসায়ী এবং আম চাষীদের।

    রাস্তার দুই ধারে সারি-সারি আম বাগান আর সুস্বাদু-বাহারি জাতের আমের কথা উঠলেই চলে আসে রাজশাহী অঞ্চলের নাম। এই জেলাকে আমের জন্য বিখ্যাত বলা হলেও মূলত আম প্রধান অঞ্চল হিসাবে খ্যাত রাজশাহীর বাঘা উপজেলা। এই জেলায় ১৭ হাজার ৯৪৩ হেক্টর আম বাগানের মধ্যে প্রায় অর্ধেক-অর্থাৎ ৮ হাজার ৫৭০ হেক্টর আম বাগান রয়েছে ঐতিহ্যবাহী বাঘা উপজেলায়।

    মাটি গুনে এ উপজেলার আমকে দেশ বিখ্যাত আখ্যা দিয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাবেক ডিজি হামিদুল ইসলাম-সহ ঢাকা, নরসিংদী, ফরিদপুর, ভৈরব এবং বরিশালের আম ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, অন্য যে কোন এলাকার চেয়ে বাঘার আম স্বুসাদু এবং সমাদৃত এ কারণে এখানকার আমের চাহিদাও অনেক বেশি।

    উপজেলা কৃষি বিভাগের দেয়া তথ্য মতে বাঘার প্রধান অর্থকরী ফসল আম। প্রায় পাঁচশ বছর পূর্বে মুঘল আমলে নির্মিত বাঘার ঐহিহাসিক শাহী মসজিদের শিলালিপিতেও এখানকার আমের ছবি দৃশ্যমান।

    বাঘার সুধী মহলরা জানান, কয়েক দিন আগে অর্থাৎ গত সপ্তায় দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হওয়ায় আমের বাজারে ধ্বস নেমেছিল। এতে অনেকটা উৎকন্ঠা এবং হতাশায় ছিলেন এ অঞ্চলের আম ব্যবসায়ীরা। তারা ধরেই নিয়ে ছিলো এবার আমের ব্যবসায় তাদের বড় ধরনের লোকসান গুনতে হবে। কিন্তু বৃষ্টি বন্ধ হওয়ায় হঠাৎ করে গত দু’তিনদিন ধরে আমা ব্যবসায় লাভের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন তাঁরা।

    বাঘার আমোদপুর গ্রামের স্কুল শিক্ষক ও বাগান মালিক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বর্তমানে কৃষকদের কাছে তেমন একটা আম নেই। তাঁরা ইতোমধ্যে বাগান চুক্তি আম বিক্রি করে দিয়েছেন। এখন এ অঞ্চলে যে পরিমাণ আম রয়েছে তা সবই ব্যবসায়ীদের। কদিন আগে তারা যতটুকু লোকসান গুনেছেন-বর্তমানে আমের বাজার যে অবস্থানে এসে দাড়িয়েছে তাতে করে এখন তারা লাভের মুখ দেখছেন।
    বাঘার সবচেয়ে বড় আম ব্যবসায়ী মুক্তার আলী বলেন, বৃষ্টির কারণে আমের বাজার নিয়ে গত তিন-চারদিন আগেও চরাম হতাশায় ছিলাম। কিন্তু গত দু’দিনে আমের বাজার পূর্বের চেয়ে ডাবলে দাঁড়িয়েছে। এ থেকে আমরা এখন আশার আলো দেখতে পাচ্ছি। তার মতে, বর্তমানে আমের বাজার যে অবস্থানে রয়েছে শেষ পর্যন্ত যদি এমনি ভাবে চলে তাহলে তারা লাভবান হবেন।

    সার্বিক বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লাহ সুলতান বলেন, এ বছর বাগানে প্রচুর পরিমাণ আম রয়েছে। কয়েক দিন আগে একটানা চার-পাঁদদিন বৃষ্টির কারণে ব্যবসায়ীরা হতাশ হয়ে ছিলেন। তবে গত দুই-তিনদিন থেকে বাজারের আমের এখন যে ঊর্ধ্বগতি তাতে ব্যবসায়ীদের হতাশা কেটে গেছে। তাঁর মতে, ঈদুল আযহার পরে বাজারে আশ্বিনা আম নামবে। সেখানেও ব্যাপক লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    স্বপ্নচাষ/আরসিআর

    Facebook Comments Box

    বাংলাদেশ সময়: ১১:৩৫ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ০৭ জুলাই ২০২১

    swapnochash24.com |

    advertisement

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    advertisement
    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১  
    advertisement

    সম্পাদক : এনায়েত করিম

    প্রধান কার্যালয় : ৫৩০ (২য় তলা), দড়িখরবোনা, উপশহর মোড়, রাজশাহী-৬২০২
    ফোন : ০১৫৫৮১৪৫৫২৪ email : swapnochash@gmail.com

    ©- 2021 স্বপ্নচাষ.কম কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত।