• মঙ্গলবার ১৯শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ৫ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

    শিরোনাম

    স্বপ্নচাষ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করতে ক্লিক করুন  

    প্রজ্ঞার বিয়ে

    পি. আর. প্ল্যাসিড, জাপান

    ২৫ ডিসেম্বর ২০২০ ৪:৪৩ অপরাহ্ণ

    প্রজ্ঞার বিয়ে

    পি. আর. প্ল্যাসিড

    অনেক দিন ধরে পরিবারে প্রজ্ঞার বিয়ে নিয়ে কথা চলছিল। এর মধ্যে তার বাবা মা প্রজ্ঞাকে বিয়ে দেবার জন্য ছেলে দেখে ঠিক করে। ছেলের নাম বরুন। বরুণ থাকে দেশের বাইরে। দেশে এসেছে ছুটি কাটাতে। অল্প সময়ের মধ্যে বিয়েটাও সেরে যেতে চায় সে। প্রজ্ঞার বাবা মা বরুনের সাথে প্রজ্ঞার বিয়ের কথা পাকা করলে প্রজ্ঞা তার সাথে স্বামী স্ত্রীর মতো করেই মেলামেশা করতে শুরু করে। বাইরে কোথাও ঘুরতে যাওয়া, সিনেমা দেখা প্রজ্ঞা বরুণের সাথে সব কিছু স্বাভাবিকভাবে করার পরেও বরুনের বিশেষ কিছু অনুরোধ রাখতে আপত্তি করে প্রজ্ঞা। প্রজ্ঞার কথা, বিয়ের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। এ কয়দিন ধৈর্য্য ধরতে পারলে তাদের মধুর সময় আসবে। বিয়ের আগে এমন কিছু সে করতে রাজি নয় যা তার জন্য ক্ষতি হতে পারে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে শুরু হয় তর্ক সেই তর্ক গড়ায় ঝগড়ায়।
    প্রজ্ঞা বলে, সামনে বড়দিন। বড়দিনের পরেই তো বিয়ে তখন তো সবই হবে। এখনই কেন তুমি পাগলের মতো এমন অনুরোধ করছো?
    বরুন বলে, আমি থাকি দেশের বাইরে। বিয়ের পর তো তোমার সাথে এভাবে মেলা মেশা করার বেশি সময় পাবো না, বিয়ে করে রেখে চলে যেতে হবে। সেখানে গিয়ে আমি তখন অশান্তিতে থাকবো যে। তাই এখন যদি আমার অনুরোধ রাখো তাহলে একটা কিছু আমাদের হবে।
    প্রজ্ঞা তার সব অনুরোধ রাখলেও বিয়ের আগে কোথাও এক সাথে গিয়ে থাকতে রাজি হয় না। বারবার তার যুক্তি সেই একটাই। প্রজ্ঞা বলে, তুমি বেশ ভালো করেই জানো আমি বাঙালি মেয়ে। আর বাঙালি মেয়েরা তার সতীত্বকে অনেক বেশি মূল্যবান সম্পদ মনে করে। চাইলেই যখন তখন বিয়ের আগে এসব কাজ করা ঠিক হবে না। এতে করে পাপ হবে।
    ছোট বেলা ধর্ম ক্লাসে তাদের শিক্ষিকা স্বর্গ-নরক আর পাপ বোধ নিয়ে যে শিক্ষা দিয়েছে এখন পর্যন্ত বড় হয়েও সে তা লালন করছে মনে। ঢাকা শহরে থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করা মেয়ে এখনো নিজেকে ধর্মীয় নিয়ম নীতির মধ্যে নিজেকে পুরোনো যুগের মানুষদের মানসিকতায় লালন করছে প্রজ্ঞা নিজেকে এটা বরুন দেখে খুশি হলেও নিজের বিষয়টি সে বড় করে দেখছে। কোনো ভাবে প্রজ্ঞাকে বোঝাতে পারছে না এখন তারা অনেকটাই স্বামী স্ত্রী। সমাজ ধর্ম মেনেই তাদের স্বীকৃতি দিয়েছে এক ছাদের নিচে বাস করার। যদিও পূর্ব কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে এখন শুধু গির্জায় গিয়ে ফাদারের পড়ানো মন্ত্র পড়ে তারপর যাত্রা শুরু করা বাকি। চাইলে এখনই সব করতে পারে। তবে আমাদের সমস্ত গ্রাম এলাকায় যারা বড় হয়েছে তাদের কথা ভিন্ন। বরুন দেশের বাইরে থাকে বলে তার মধ্যে কিছুটা পরিবর্তন হতেই পারে। বিষয়টি কোন ভাবে প্রজ্ঞাকে বোঝাতে পারছিলো না।
    সব কিছুর পরেও বরুন বেশ জোর করতে থাকে। এক সময় সে বেশ রাগ হয়ে বলে, এখনই তুমি আমার কথা শোন না দেখছি বিয়ের পর কি করবে, তখন তো আরো কথা শুনবে না। তোমার সাথে মনে হয় না বিয়ে আমার হবে। আজই আমি বাড়িতে বলে দেবো এই বিয়েতে আমার মত নেই।
    এই কথা শোনার পর প্রজ্ঞা তখনই বলে দেয়, তুমি আমাকে বাচালে। আমি যাই। মনে মনে আমিও ভাবছিলাম তোমার মতো ছেলের সাথে আমার বিয়ে হলে সারা জীবন থাকবো কিভাবে? আমিও মনে মনে চাইছিলাম তুমি সরে গেলে আমি বাচি। বেচে গেলাম। আজকের পর থেকে তুমি কখনো আমার সাথে যোগাযোগ করবে না। দেখাও যেন না হয় সেভাবেই চলবে। বলেই সাথে সাথে উঠে চলে যেতে থাকে সে।
    দুজন উত্তরার কাছে নতুন শহর দিয়াবাড়িতে কাঁশ বনে বসে গল্প করছিলো। উঠে যাবার পর বরুন তার হাত ধরে অনুরোধ করে, রাগ না করতে। সে তার সব কথাই মেনে নিতে রাজি। তবে তার বিষয়টাও একবার ভেবে দেখতে বলে।
    প্রজ্ঞা বরুনকে বলে, আমি আসলে এত তাড়াতাড়ি বিয়ে করতে রাজি না। আমার আরো পড়ালেখা করার ইচ্ছা। তোমার অনুরোধে আমার বাবা মা আমার মতের বাইরে বিয়ে দিতে রাজি হয়েছিলো। এখন আমি বাড়িতে বলতে পারবো তুমি মন থেকে চাও না আমাকে বিয়ে করতে।
    তোমার কি তাহলে অন্য কারো সাথে সম্পর্ক আছে, যে কারণে এখনই বিয়ে হতে রাজি না?
    সেটি আমার একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়। এ নিয়ে প্রশ্ন করার তোমার কোন অধিকার নেই। বলে এবার সত্যি সত্যি চলে যায়।
    বাড়িতে গিয়ে প্রজ্ঞা তার এক কাকীমাকে সব বুঝিয়ে বলে। বলার পর তার কাকীমা বিষয়টি প্রথমে কাউকে না বলে প্রজ্ঞার মন পরিবর্তন হয় কি না তা খেয়াল করে। বয়স কম হলে যা হয়। মন বদলাতে সময় লাগে না। এখনো নিজে তেমন শক্ত কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবার সাহস পায় না।
    প্রজ্ঞার কাকীমা মনে করেন, হোক সে মেয়ে। তার মতের স্বাধীনতা থাকা চাই। এই সমাজে যেন সে নিজেকে একজন মানুষ হিসেবে পরিচয় দিতে পারে সে জন্য লেখাপড়া করার বিষয়টি গুরুত্ব দেন। মন থেকে যদি প্রজ্ঞা বিয়েতে রাজি না থাকে তাকে আর জোর করে বিয়ে দেবার চেষ্টা করবে না বরং লেখাপড়ায় উৎসাহী করবে। মনে করে প্রজ্ঞাকে বলে, ঠিক আছে আমি তোমার সাথে আছি। তোমার যখন যা ভালো লাগে করো। তবে আমাকে আগে থেকে জানিয়ে রেখো যেন আমি কোন সমস্যা হলে তোমার হয়ে কথা বলতে পারি।
    বিয়ে ভেঙ্গে দেবার পর প্রজ্ঞার আর বাড়িতে তেমন মন বসে না। কেমন মন মরা মন মরা অবস্থায় থাকে। বিষয়টি বাড়ির সবাই বেশ খেয়াল করে। তা ছাড়া বিয়ের আগে সে যেভাবে বরুনের সাথে মেলা মেশা করেছে এতে তার মনের মধ্যে কিছুটা হলেও বিয়ের স্বাদ পায়। একা বসে সেই সময়ের কিছু ঘটনা আর বরুনকে নিয়ে ভাবে। এ অবস্থায় তার মনের রিক্রিয়েশন দরকার মনে করে দূরে কোথাও বেড়াতে পাঠানোর কথা চিন্তা করে। কিন্তু কার সাথে কোথায় পাঠাবে সে নিয়েও বাবা মা চিন্তা করে।
    এর কিছুদিন পরেই প্রজ্ঞা তার কাকীমার সাথে তার বাপের বাড়ি বেড়াতে যায়। সেখানে গেলে পরিচয় হয় কাকীমার বাপের বাড়ির পাশের বাড়ির এক ছেলের সাথে। নাম তার টমাস। টমাস ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করছে। সম্পর্কে তার কাকীমার ভাই হয়। টমাস আর প্রজ্ঞার কাকীমা প্রায় একই বয়সের বলে তাদের মধ্যে অনেকটা বন্ধুর মতো সম্পর্ক। টমাস প্রায়ই বিভিন্ন অযুহাতে সেই বাড়িতে এসে প্রজ্ঞার কাকীমার সাথে কথা বলে। সময় সময় রসিকতা করেও কথা বলতে দেখে প্রজ্ঞা বুঝতে পারে তাদের আন্তরিকতার বিষয়টি।
    প্রজ্ঞার সাথে টমাস একদিন সুযোগ পেয়ে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলে। কথা বলে এটুকু বুঝতে পারে টমাস যে তার প্রতি সে যে কিছুটা হলেও দুর্বল। তাকে প্রেমের প্রস্তাব করতে চায়। অথচ সাহস পায় না। দুজনের কোন বিষয়ে গভীর আলাপ হবার আগেই প্রজ্ঞা তার কাকীমার সাথে টমাসের বিষয় নিয়ে আলাপ করে। প্রজ্ঞার আগ্রহ দেখে তার কাকীমা বলে, টমাস খুব ভাল ছেলে হলেও তাদের পরিবারের আর্থিক অবস্থা তেমন ভালো না। অনেক কষ্টে সে ঢাকা পড়ালেখা করছে। প্রজ্ঞা টমাস সম্পর্কে সব কথা শোনার পর তার সাথে একদিন বসে কথা বলতে চায়।
    প্রজ্ঞার কথা শোনার পর তার কাকীমা টমাসকে ডেকে প্রজ্ঞার আগ্রহের কথা জানিয়ে প্রজ্ঞার সম্পর্কে ধারনা দেয়। টমাস সব শোনার পর রাজি না হয়ে সময় চেয়ে বলে, তাকে ভাবতে দু’একদিন সময় দিতে হবে। প্রজ্ঞার কাকীমা টমাসকে ছোট বেলা থেকে চিনে এবং জানে। সুতরাং তার ভালো ছাড়া খারাপ কিছু হোক তা চায় না। যে কারণে তাকেও প্রজ্ঞা সম্পর্কে বলে, আমি জানি প্রজ্ঞা খুব ভাল মেয়ে। প্রজ্ঞ যদিও আমার ভাসুরের মেয়ে তারপরেও বলতে পারি তোমার সাথে যেমন মানাবে তেমনই তুমি সুখী হতে পারবে ওকে নিয়ে। তুমি রাজি হয়ে প্রেম নয় তোমার বাবা মার সাথে বিয়ের ব্যাপারেই কথা বলে দেখতে পারি।
    প্রজ্ঞাকে নিয়ে যেদিন তার কাকীমা বাড়ি ফিরে যাবে তার আগের দিন টমাসকে দাওয়াত করে তাদের বাড়িতে। এক সাথে তিনজন দুপুরে খেতে বসে কথা বলতে বলতে একজন আরেকজন সম্পর্কে জানার সুযোগ করে দেয়। প্রজ্ঞার সাথে তার কাকীমার এক ধরনের বন্ধুত্ব সম্পর্ক গড়ে উঠে। সব কথাই মন খুলে শেয়ার করে। প্রজ্ঞা তার কাকীমাকে বলে, বরুনের সাথে তার বিয়ে ভেঙ্গে যাবার পর থেকে সে কোন কিছুতে আর শান্তি পায় না। সে পারলে এখন সব ছেড়ে বিয়ের কাজটি সম্পন্ন করতে চায় আগে। সুতরাং অনেকটা বরুনকে দেখানোর জন্য জিদ করে সে। বিয়ে তাকে এরই মধ্যে করতে হবে। তার কপালে ভালো কি মন্দ ছেলে জুটবে সে নিয়ে তার এখন তেমন আর মাথা ব্যাথা নেই। বিয়ে হলেই হলো।
    এতদিন প্রজ্ঞার বিয়ে নিয়ে যেমন তার বাবা মা ব্যস্ত ছিলো এবার প্রজ্ঞা নিজেই তার স্বামী নির্বাচনের জন্য এগিয়ে আসে। কাকীমাই যেন হয়ে উঠেন তার অভিভাবক।
    টমাস প্রজ্ঞার সাথে কথা বলে তারও কিছু শর্ত দেয়। শর্ত মেনে নেবার কথা বলে প্রজ্ঞা তার জীবনে ঘটে যাওয়া বরুনের সাথে বিয়ের কথা পাকা করার পর ভেঙ্গে যাবার যে দুর্বলতা তাও বলে। কথা শোনার পর টমাস প্রথম বলেছিল, আমার এখনও বিয়ের বয়স হয়নি। এখনো পড়ালেখা করছি। পড়ালেখাাটা আগে শেষ হোক তারপর দেখা যাবে। তাছাড়া আমাদের পরিবারের আর্থিক অবস্থাও তেমন ভালো না। পড়ালেখা শেষ করে পরিবারের অন্যদের কথা ভবতে হবে। এরপর না হয় তোমাকে নিয়ে ভাবি?
    প্রজ্ঞা তার কাকীমাকে স্বাক্ষী রেখে অনেক কথাই বলে টমাসের সাথে। সবশেষ প্রজ্ঞা টমাসকে তার ইচ্ছার কথা জানায়, সে যদি কখনো বিয়ে করে তাহলে তাকেই করবে। তাকে ছাড়া অন্য আর কাউকে বিয়ে করবে না। আপাতত সে পড়াশোনা করছে যেহেতু পড়াশোনা করবে। পড়ালেখা শেষ করে চাকরি করবে। যখন টমাস নিজেকে বিয়ের জন্য প্রস্তুত মনে করবে তখনই যেন তাকে স্মরণ করে।
    প্রজ্ঞা তার কাকীমা সহ চলে যায় বাড়ি। এর মধ্যে এলাকায় জানাজানি হয়ে যায় প্রজ্ঞার বিয়ে ঠিক হয়ে আবার সেটি ভেঙ্গেও গিয়েছে। এটি নিয়ে কেউ কেউ কানাঘুঁষা করলেও এলাকায় প্রজ্ঞা সম্পর্কে কেউই কোন বাজে মন্তব্য করতে পারে না যে জন্য অনেকেই মনে করে প্রজ্ঞাকে তাদের কারো ভাই বা অন্য কোন আত্মীয়কে দিয়ে বিয়ে করিয়ে নিতে পারলে মন্দ হয় না।
    এর মধ্যে প্রজ্ঞাকে দেখার জন্য প্রতিদিন কোনো না কোনো ঘর আসতে শুরু করে। বড়দিনের পর বর্ষ শুরুতে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ছেলে মেয়েদের বিয়ের ধূম পড়ে। এ সময়টকে বিয়ের উত্তম সময় মনে করে খ্রিষ্টান গ্রাম এলাকায়।
    প্রতিদিন বাড়িতে এভাবে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে আসতে দেখে প্রজ্ঞা নিজেই টমাসকে খবর দিয়ে আনিয়ে তার বাবা মার সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়ে বলে এখনই তাকে তুলে নিতে হবে না। তবে বিয়ের পাকা কথা দিতে হবে। সে যেন এমন পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পায়। টমাস প্রজ্ঞাকে এভাবে বিরক্ত করা থেকে মুক্তি দিতে উভয়ের পরিবারেই কথা বলে প্রজ্ঞাকে বিয়ে করতে রাজি থাকার বিষয়টি পাকা করে। কিন্তু এখনই বিয়ে করলে তার যে সংসার চালানো কষ্ট হয়ে যাবে তাই বছর দুই অপেক্ষা করতে বলে।
    প্রজ্ঞা সেই মূহুর্তে টমাসকে বলে, তার আর মাত্র এক বছর বাকি আছে। পাশ করে বের হয়ে যে কোন এনজিওতে একটা চাকরি ব্যবস্থা করতে পারবে। আপাতত যদি দরকার মনে করে তবে ঢাকা টিউশনি করে হলেও সংসার চালানোর ব্যবস্থা করতে পারবে।
    প্রজ্ঞার মনোবল দেখে বাড়ির সবাই বেশ খুশি হয়। কারণ সে জানে এখন বাড়ি থেকে তাকে আর কোন ধরনের সাপোর্ট দিতে পারবে না। নিজের পথ নিজেকেই দেখতে হবে। পরিবারের এমন কোন সামর্থ নেই যে মেয়েকে ঢাকা রেখে পড়াবে। তাছাড়া সময় থাকতে মেয়ের বিয়ে না দিলে মানুষজন ভালো চোখে দেখবে না। পরিবারে সবার আদরের মেয়ে হলেও পরিবারের ভিতরেও এখন প্রজ্ঞাকে নিয়ে কথা বলা শুরু হয়ে গেছে। সে সকল কথা প্রজ্ঞা আমলে নিতে শুরু করেছে বিধায় তার মন খারাপ হয়।
    একদিন প্রজ্ঞা বিশেষ কাজে ঢাকা যাবার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে রওনা দেয়। বাসে যাবার জন্য কাউন্টারে টিকিট কেটে বাসের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। এমন সময় বরুন তার সামনে এসে হাজির হয়। প্রজ্ঞা তাকে দেখে অবাক না হলেও কোন কথা বলে না। বরুন সামনে এসে প্রজ্ঞার সাথে কথা বলার চেষ্টা করে। সেখানে তাদের পরিচিত অপরিচিত বেশ কিছু লোক ছিল যারা তাদের দু’জনকে ফলো করছিল। অনেকটা নিজেকে বাচিয়ে নেবার জন্য বাধ্য হয়ে প্রজ্ঞা বরুনের কথার উত্তর দেয়।
    কোথায় যাচ্ছো?
    ঢাকা।
    আমিও যাচ্ছি।
    তা ফিরে যাচ্ছো কবে?
    একমাস ছুটি বাড়িয়েছি।
    বিয়ে করেছো?
    করলে তো তুমি আগেই জানতে। আমি ভাবলাম বড়দিন তো চলেই এসেছে। আগের সব না হয় ভুলে গিয়ে বড়দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করি। এরপরই না হয় বিয়েটা হোক।
    প্রজ্ঞা কোন কথা না বলে চোখ বড় করে তাকিয়ে থাকে। না পারছে রাগ দেখাতে না পারছে অন্য কিছু বলতে। বরুন আবার বলে, আমি না হয় একটু বেশি বেশিই করেছিলাম। আরেকবার না হয় ভেবে দেখো। এমন তো কোন অন্যায় আমি করিনি। যে ভুল শোধরানোর কোন সুযোগ থাকতে পারে না।
    প্রজ্ঞা কোনো কথাই বলে না। বরুন বলে, আমি জানি তুমি আমাকে সহ্য করতে পারছো না। কিন্তু আমি তোমাকে যে ভুলতে পারছি না। তুমি যাই বলো, মনের বিয়ে কিন্তু আমাদের হয়ে গেছে। শরীর হয়তো তা বুঝতে পারে নি। আমি তোমার সাথে দেখা করে ক্ষমা চাইবো ভেবেছিলাম, ভাগ্য ভালো দেখা হয়ে গেলো। তুমি এক কাজ করো, ঢাকা যাচ্ছি আমার কাগজপত্র ঠিক করতে। কাজ সেরে না হয় বড়দিন আর বিয়ের মার্কেটিংটা এক সাথেই সেরে ফেলি। যদি সম্মতি দাও।
    প্রজ্ঞা এবার নরম হয়ে বলে, আমার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে।
    হতে পারে। আগেও তো ঠিক হয়েছিল। বিয়ে তো আর তোমার হয়ে যায় নি। ভেবে দেখো। আমি মনে প্রাণে তোমাকেই চাই। বিয়ে করলে তোমাকেই করবো। অন্য কাউকে নিয়ে আমি যে আর সংসার করতে পারবো না। তোমার সাথে তো আমার এমন কিছু ঘটে নি যে সারা জীবন মুখ দেখাদেখি করবে না। বিয়ে ঠিক করা হয়েছিলো এজন্যই একটু আধটু আবদার করেছি। সে তো আর তুমি রাজি হও নি। দেখো যদি সম্মতি থাকে তাহলে বড়দিনের পরেই সাতাশ বা আটাশ তারিখ বিয়েটা করে ফেলতে পারি।
    ঠিক আছে আমাকে ভাবতে দাও। তাছাড়া গির্জায় গিয়ে আবার ফাদারকে বলে সব নতুন করে শুরু করতে হবে।
    প্রজ্ঞার কথা শুনে বরুন অনেকটা আস্বস্ত হয়।
    বাস চলে আসে বাস স্ট্যান্ডে। বরুন প্রজ্ঞার ব্যাগ নিয়ে আগে আগে বাসের কাছে গিয়ে ইশারায় প্রজ্ঞাকে ডাকে। প্রজ্ঞা বাসে গিয়ে নির্ধারিত সিটে বসে। যদিও বরুনের ছিট ছিলো দূরে, সে কন্ডাক্টরকে বলে পাশাপাশি সিট নিয়ে বসার ব্যবস্থা করে। সময় হলে বাস চলতে শুরু করে।
    বাসে যেতে যেতে প্রজ্ঞা আর বরুন তাদের মন বদলানোর বিষয়ে আলোচনা করে। ঢাকা বাস যথাস্থানে গিয়ে থামার আগেই প্রজ্ঞা তার মত পরিবর্তন করে বরুনের প্রস্তাবে রাজি হয়ে সম্মতি দেয়।

    লেখক : জাপান প্রবাসী লেখক-সাংবাদিক।

    স্বপ্নচাষ/একে

    Facebook Comments

    বাংলাদেশ সময়: ৪:৪৩ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২০

    swapnochash24.com |

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫
    ১৬১৭১৮১৯২০২১২২
    ২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
    ৩০৩১  

    সম্পাদক : এনায়েত করিম

    সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: গুরুদাসপুর, নাটোর-৬৪৩০
    ফোন : ০১৫৫৮১৪৫৫২৪ email : swapnochash@gmail.com

    ©- 2021 স্বপ্নচাষ.কম কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত।