• বুধবার ৮ই ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ২৩শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

    শিরোনাম

    স্বপ্নচাষ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করতে ক্লিক করুন  
    পবা-মোহনপুরে ইউপি নির্বাচন

    পারিলায় নৌকা প্রতীক পেতে মরিয়া বিদ্রোহী-বহিস্কৃতরাও

    স্বপ্নচাষ প্রতিবেদক

    ১৭ অক্টোবর ২০২১ ৫:১৩ অপরাহ্ণ

    পারিলায় নৌকা প্রতীক পেতে মরিয়া বিদ্রোহী-বহিস্কৃতরাও

    ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের তৃতীয় ধাপে রাজশাহীর পবা-মোহনপুর উপজেলার ১৩টিসহ দেশের ১০০৭ ইউপিতে ২৮ নভেম্বর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

    আসন্ন নির্বাচন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১৪ অক্টোবর) পবার পারিলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় পারিলা ইউনিয়নে নৌকা প্রতীক পেতে সাতজন আবেদন করেছেন।

    ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে তাদের মধ্যে মরিয়া চেষ্টা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে সবচেয়ে বেশি মরিয়া হয়ে উঠেছেন পারিলায় গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের বিরুদ্ধে গিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়া ও তাকে সমর্থন দেওয়ায় বহিস্কার হওয়া দুই নেতা। তারা হলেন- পারিলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সোহরাব আলী ও পবা উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা সাইফুল বারী ভূলু।

    রাজশাহী জেলা, পবা উপজেলা, পারিলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ও বহিস্কারাদের কপি সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালে পবা উপজেলার পারিলা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী মনোনীত দলীয় চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী তথা নৌকা প্রতীকের বিরুদ্ধে পবা উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা সাইফুল বারী ভূলু বিদ্রোহী হিসেবে অংশ নেন।

    ভূলুকে সমর্থন দিয়ে তার পক্ষে কাজ করেন পারিলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সোহরাব আলীসহ কয়েকজন নেতাকর্মী। ফলে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটি এবং রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের নির্দেশনা মোতাবেক তাদের বহিস্কার করে দলীয় সকল পদ থেকে অব্যহতি দেয় পবা উপজেলা আওয়ামী লীগ।

    ২০১৬ সালের ১৬ মে পবা উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় দলের আদর্শ, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, শৃঙ্খলা বিরোধী ও গঠনতন্ত্র পরিপন্থী হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

    সভার এ সিদ্ধান্তটি পবা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মাজদার রহমান সরকারের সাক্ষরে দলীয় প্যাডে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক বরাবর পাঠিয়ে অবহিতও করা হয়। অথচ বহিস্কৃত নেতা সোহরাব আলীও এবার নৌকা প্রতীক পেতে আবেদন করার পাশাপাশি জোর তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

    এসব বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে কাজ করায় বহিস্কার হওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে সোহরাব আলী। তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ সত্য নয়। বহিস্কারাদেশের কপিকেও তিনি ভুয়া দাবি করেন।

    এ বিষয়ে পবা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বহিস্কারাদেশের ওই দলীয় প্যাডে সাক্ষরকারী মো. মাজদার রহমান সরকার বলেন, নৌকা প্রতীকের বিপক্ষে কাজ করায় বহিস্কারের ওই ঘটনা সম্পূর্ণ সত্য। সেই মিটিংয়ের তথ্য ও প্রমাণ এখনও আমাদের কাছে সংরক্ষিত আছে।

    অপর এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি আরও বলেন, যারা নৌকা প্রতীকের বিদ্রোহী হিসেবে কাজ করেছে তাদের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে সরকারের স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। ফলে বিদ্রোহী ও বহিস্কৃতদের নাম অবশ্যই কেন্দ্রে যাবে না।

    বিদ্রোহী ও বহিস্কৃতরা নৌকা প্রতীক চাইলে তাদের নাম কেন্দ্রে পাঠানো হবে কিনা জানতে চাইলে পবা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইয়াসিন আলী বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এসব বিষয়ে আগেই নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই নির্দেশনা মেনেই কেন্দ্রে নাম পাঠানো হবে।

    রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আমানুল হক দুদু বলেন, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের বিষয়ে সকল ক্ষমতা সংসদ সদস্য ও থানা আওয়ামী লীগের হাতে। ত্যাগীদের খুব একটা মূল্যায়ন নাই। তারা যাদের নামে সুপারিশ করবে যত অভিযোগই থাকুক তারাই নৌকা প্রতীক পাবে। এসব বিষয়ে আমাদের কিছুই করার নাই।

    পারিলা ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে বহিস্কৃত নেতা সাইফুল বারী ভূলু ও সোহরাব আলী ছাড়াও বর্ধিত সভায় নৌকা প্রতীক চেয়ে আবেদন করেছেন- পারিলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নবীবুর রহমান, পারিলা ইউনিয়ন মহিলা লীগ সভাপতি ফাহিমা বেগম, ৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা আজিজুল হক, পারিলা ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি আসাদুল হক ও পারিলা ইউনিয়ন কৃষকলীগ সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম।

    উল্লেখ্য, রাজশাহীর পবা ও মোহনপুর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে তৃতীয় ধাপে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। পবা উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের মধ্যে ৭টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ইউনিয়নগুলো হচ্ছে-দর্শনপাড়া, হুজুরীপাড়া, দামকুড়া, হড়গ্রাম, হরিপুর, পারিলা ও বড়গাছী ইউনিয়নে ২৮ নভেম্বর ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। হরিয়ান ইউনিয়নে সীমানা জটিলতায় আদালতে অভিযোগ থাকায় তৃতীয় ধাপে এ ইউনিয়নে নির্বাচন হবে না।

    এছাড়াও মোহনপুর উপজেলার সবকটি ইউনিয়নে ২৮ নভেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ইউনিয়নগুলো হচ্ছে মৌগাছী, ঘাসিগ্রাম, রায়ঘাটি, বাকশিমইল, ধুরইল ও জাহানাবাদ ইউনিয়ন।

    স্বপ্নচাষ/একে

    Facebook Comments Box

    বাংলাদেশ সময়: ৫:১৩ অপরাহ্ণ | রবিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২১

    swapnochash24.com |

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০
    ১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
    ১৮১৯২০২১২২২৩২৪
    ২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
    advertisement

    সম্পাদক : এনায়েত করিম

    প্রধান কার্যালয় : ৫৩০ (২য় তলা), দড়িখরবোনা, উপশহর মোড়, রাজশাহী-৬২০২
    ফোন : ০১৫৫৮১৪৫৫২৪ email : swapnochash@gmail.com

    ©- 2021 স্বপ্নচাষ.কম কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত।