• বুধবার ২৫শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ ১০ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

    শিরোনাম

    স্বপ্নচাষ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করতে ক্লিক করুন  

    নাটোরে ঝড়ে আশ্রয় নেওয়া অতিথি পাখি রান্না করে খেল গ্রামবাসী!

    স্বপ্নচাষ ডেস্ক

    ২১ মে ২০২০ ১১:০৬ অপরাহ্ণ

    নাটোরে ঝড়ে আশ্রয় নেওয়া অতিথি পাখি রান্না করে খেল গ্রামবাসী!

    ফাইল ছবি

    নাটোরের বড়াইগ্রামের বাজিতপুর গ্রামে ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের প্রভাবে গাছে ঠাঁই নেয় শামুকখোল পাখি। বাতাসের তোড়ের সঙ্গে তাল মেলাতে না পেরে বৃহস্পতিবার ভোরে অন্তত ২০০ পাখি মাটিতে পড়ে যায়। এরপর গ্রামবাসী পাখিগুলো ধরে নিয়ে জবাই করে রান্না করে খেয়ে ফেলে।

    ওইগ্রামের তরুণ আব্দুল কাদের জানান, গত তিন মাস ধরে গ্রামের বটতলা বাজারের পাশের তিনটি শিমুল গাছে আস্তানা গড়ে দুই শতাধিক শামুকখোল পাখি। দিনের বেলায় পাখিগুলো আশপাশের বিলে খাবার খেতে যেত। রাতে গাছে এসে আশ্রয় নিত। এর মাঝে অনেকেই পাখিগুলো শিকার করার চেষ্টা করেছেন। তবে তিনি বাধা দেওয়ায় তাদের চেষ্টা সফল হয়নি। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না।

    আজ ভোরে ঝড়ের তাণ্ডবে পাখিগুলো এক এক করে মাটিতে পড়ে যায়। এ সময় সুযোগসন্ধানী লোকজন পাখিগুলো ধরে বাড়িতে নিয়ে যান। মাংস হিসেবে রান্নার জন্য কেটেকুটে পরিষ্কার করা হয়। খবর পেয়ে আব্দুল কাদের ছুটে যান বাড়ি বাড়ি। কিন্তু ততক্ষণে দেরি হয়ে যায়। অনেকেই রান্নার জন্য এসব পাখির মাংস চুলাতে চড়িয়ে দেন। পাখিরগুলোর আস্তানার কাছে ছুটে গিয়ে তিনি একটি পাখিও দেখতে পাননি।
    আব্দুল কাদের বলেন, কয়দিন আগেই তিনি এসব অতিথি পাখির ছবি তুলে স্থানীয় প্রশাসন ও গণমাধ্যম কর্মীদের দেখিয়েছিলেন। গর্ব করেছিলেন পাখিগুলোর নিরিবিলি অবস্থান নিয়ে। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় আম্ফান সব শেষ করে দিলো। মনে কষ্ট নিয়ে তিনি বলেন, ‘অনেক বুঝিয়ে গ্রামবাসীকে এতদিন পাখিগুলোকে ধরতে দেইনি। অথচ ঝড়ের কারণে এক রাতেই পাখিগুলো শেষ হয়ে গেল। এ কষ্ট আমি কখনোই ভুলতে পারব না।’

    যে শিমুল গাছে এতদিন পাখিগুলো আশ্রয় নিয়েছিল, তার পাশেই আশরাফ আলীর বাড়ি। তিনি বলেন, এক একটা পাখির ওজন ছিল ২ থেকে ৩ কেজি করে। পাখিগুলোর প্রতি গ্রামের কিছু লোকের আগে থেকেই লোভ ছিল। ঝড়ের সময় মানুষ যখন নিজেদের জানমাল নিয়ে ব্যস্ত, তখন ওইসব লোকজন পাখিগুলো ধরে নিয়ে যায়। ঘটনা জানাজানি হওয়ার আগেই পাখিগুলো জবাই করে রান্নার উপযোগী করা হয়।

    চলনবিল জীব বৈচির্ত্য রক্ষা কমিটির সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, অসহায় অতিথি পাখি নিধনের ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। এ ধরনের পরিস্থিতি এড়ানোর জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে আগে থেকে তৎপর থাকা দরকার ছিল। পাখির আবাসস্থলের আশপাশের লোকজনকে সচেতন করে পাখি নিধন বন্ধে উদ্যোগ নেওয়া উচিত।

    বড়াইগ্রাম উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা উজ্জল কুমার কুণ্ডু বলেন, বাজিতপুরে গ্রামে অতিথি পাখি শামুকখোল পাখি থাকার বিষয়টি তাঁদের জানা ছিল না। এ রকম ঘটনা যেন আর না ঘটে সে জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    স্বপ্নচাষ/আরএস

    Facebook Comments

    বাংলাদেশ সময়: ১১:০৬ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২০

    swapnochash24.com |

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩
    ১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
    ২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
    ২৮২৯৩০  

    সম্পাদক : এনায়েত করিম

    সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: গুরুদাসপুর, নাটোর-৬৪৩০
    ফোন : ০১৫৫৮১৪৫৫২৪ email : swapnochash@gmail.com

    ©- 2020 স্বপ্নচাষ.কম কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত।