• মঙ্গলবার ২৭শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ ১১ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

    শিরোনাম

    স্বপ্নচাষ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করতে ক্লিক করুন  

    দেশে আসলে হচ্ছেটা কি, কেউ একটু বলবেন কি?

    পি. আর. প্ল্যাসিড, জাপান

    ০৩ মে ২০২০ ১২:০১ পূর্বাহ্ণ

    দেশে আসলে হচ্ছেটা কি, কেউ একটু বলবেন কি?

    পি. আর. প্ল্যাসিড

    পৃথিবীজুড়ে তাণ্ডব চালাচ্ছে করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯)। ফলে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কায় এক ধরনের ভয় এবং এ থেকে নিজেদের রক্ষা করার আপ্রাণ চেষ্টা চলছে। যদিও এখানে কেউ কোনো শক্তি প্রদর্শন করতে পারছেন না। অদৃশ্য শক্তির বিরুদ্ধে ঘোষণা করা এক ধরনের যুদ্ধ প্রতিহত করতে কেউ ঘরের বাইরে বেরিয়ে আসার আহ্বান পাচ্ছেন না। নির্দেশ পাচ্ছেন কেবলই ঘরের ভিতর নিরাপদে থাকার। ইতিহাস ঘেটে যা মনে হয়েছে, প্রায় শতবর্ষ পরে প্রকৃতির নিয়মেই আসা এক মহামারী যেন এই কোভিড-১৯।

    কথিত হলেও কেউ নিশ্চিত বলতে পারছেন না কোভিড-১৯ আসলে কোনো গবেষণাগার থেকে লাফিয়ে বেরিয়ে আসা ভাইরাস না-কি প্রকৃতির নিয়মে পৃথিবীতে পাপ দমনের জন্য সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছাতে আসা কোনো শাস্তি।

    পৃথিবীর শক্তিধর দেশগুলো অদৃশ্য এই ভাইরাসের দাপটে আজ ধরাশায়ী। কেউ কিছু সঠিক করে বলতে না পারলেও বলছে শুধু সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য, তবেই না-কি নিরাপদ।

    সামজিক নিরাপত্তার কথা বলে পুরো বিশ্ববাসীকে ভয় দেখিয়ে ঘরে বন্দী রেখেছে। এর মাধ্যমে মহামারীকে সফল করে তুলছে যেন ক্ষমতাশীনরা। এর শেষ আমরা তাৎক্ষণিক বলতে না পারলেও বুঝি, এই ভাইরাসের দাপট কমে গেলেও যে সাড়া পৃথিবীতে দুর্ভিক্ষ লাগার পূর্বাভাস এখন মানুষের চিন্তাজুড়ে। এমন অবস্থায় বাংলাদেশ চলছে কোন সমীরণে?

    বাংলাদেশে করোনাভাইরাস ধরা পরার শুরুর দিকে নানা ধরনের মিথ্যাচার এবং এই করোনাভাইরাস পরীক্ষা করার বিষয়েও চলেছে নানা টালবাহানা। আমাদের দেশে করোনাভাইরাস মোকাবেলার তেমন কোনো কিছুরই পর্যাপ্ততা ছিল না। তারপরেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বার বার বলে আসছিল, ‘সব কিছুর প্রস্তুতি নেওয়া রয়েছে’। অনেকটা এমন ছিল যে, বলে আসা হচ্ছে ড্রামে অনেক কিছু মজুত রয়েছে। কিন্তু প্রয়োজনে ঢাকনা খুলে দেখা গেল ভিতরে শূন্য। কোনো কিছুই নেই ড্রামের ভিতর। করোনা ভাইরাস নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রচারণা অনেকটাই ছিল এমন।

    যখন সংশ্লিষ্টরা দেখলো দেশে ক্রমেই করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে এবং পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে তখন বাধ্য হয়ে লকডাউন ঘোষণা করা হল সাড়াদেশে। কিন্তু সরকার লকডাউন ঘোষণা করলেও সাধারণ জনগণ মনে করলো এটা তাদের ছুটি। তাই মহাআনন্দে ছুটি ভোগ করতে তারা সমুদ্র সৈকত বা পর্যটন এলাকাগুলোয় গিয়ে ভিড় জমাতে থাকলো দল বেঁধে গিয়ে।

    যে কোনোভাবেই হোক বিভিন্ন বাহিনীর সহায়তায় কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে জনসাধারণকে লকডাউনের আওতায় আনা গেলেও সাধারণ শ্রমিকদের নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন অনেকটাই শুরু করেছে তামাশা। লকডাউন কি এবং কেন এ বিষয়ে কতটা জনসচেতনতা জাগিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তা সংশ্লিষ্টদের কর্মকাণ্ড দেখেই অনুমান করা যায়।

    সম্প্রতি অল্প সময়ের নোটিশে ঢাকা শহরের বিভিন্ন গার্মেন্টস ফেক্টরিগুলোতে কাজ শুরু করার কথা ঘোষণা দিলে দূর-দূরান্ত থেকে শ্রমিকরা কত যে কষ্টে ঢাকা এসে পৌছেছিল তা মিডিয়ায় চোখ রাখলে বোঝা যায়। আবার হঠাৎ করেই ঘোষণা পাল্টালে বিপদে পড়ে যান গার্মেন্টস শ্রমিকরা। নিরুপায় হয়ে তারা আবার নিজেদের ঘরে ফিরে যান। মাঝ পথে কেউ কেউ আবার পুলিশের ডাণ্ডার বারিও খেয়েছেন।

    দলে দলে ঢাকা শহরে এসে ভিড় করার এই অপরাধ কি বিন্দুমাত্র শ্রমিকদের ছিল? সেই সময়ের কিছু ছবি এবং ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় তা দেখার সুযোগ হয়েছে। ওসব দেখে কষ্ট লেগেছে তাদের অসহায়ত্বের জন্য। তখন কি পারেনি ডাণ্ডাওয়ালারা কিছুটা নমনীয় বা মানবিক হতে?

    কে শুনবে কার কথা, সাধারণ জনগণ যে তাদের কাছে গিনিপিগ হয়ে আছে। করার বা বলার কোনো উপায় নেই। পৃথিবীজুড়ে যেখানে মহামারীর প্রাদুর্ভাব এখনও শেষ হয়ে যায়নি, সেখানে বাংলাদেশের করোনাভাইরাস সাধারণ গার্মেন্টস শ্রমিকদের প্রতি করুণা করবে, এমন আশা আমরা করি কিভাবে?

    যেখানে ডাক্তার নার্সদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সেখানে গার্মেন্টসের ভিতর হাজার হাজার শ্রমিকের নিরাপত্তা দিবে কি করে? করোনাভাইরাস যেখানে ধনী-গরীব, নেতা-কর্মী বা ধর্ম বর্ণ বিচার না করেই আক্রান্ত করছে, সেখানে কোন ভরসায় তাদের বিপদের মুখে ঠেলে দিয়ে গার্মেন্টস শ্রমিকদের কাজে যোগদানের কথা বলা হয়েছে?

    এদিকে, শ্রমিকরা ঢাকা-গাজীপুরসহ বিভিন্ন এলাকার গার্মেন্টসগুলোয় এসে কাজে যোগদান করেছে। কিন্তু তাদের তো সংসার আছে। কাজে যোগদানের আহ্বান করার আগে তাদের দেনা-পাওনার হিসাবের বিষয় পরিষ্কার করা দরকার ছিল আগে। অথচ কোনো কিছুর মিমাংসা না করে শুধু কাজে যোগদানের কথা বলে তাদের দিয়ে যে ফায়দা নেবার কথা ভেবেছে তা শ্রমিক গোষ্ঠী সহজে মেনে নিতে পারেনি বলেই হয়তো গাজীপুরের বেশ কিছু ফেক্টরিতে অগ্নি সংযোগ ও ভাঙচুর করার মত কিছু অপ্রত্যাশিত ঘটনা তারা ঘটিয়েছে।

    যেখানে বাংলাদেশে করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯ টেস্ট করার পর্যাপ্ত মেডিক্যাল সামগ্রীর ব্যবস্থা করা যায়নি, সেখানে বাংলাদেশে করোনাভাইরাস আক্রান্তর সংখ্যা কম বলছে কিসের ভিত্তিতে, জানি না। অপর দিকে মৃত্যুর আগে এবং মৃত্যুর পরে রোগীর টেস্ট রেজাল্ট যেখানে ভিন্ন আসতে দেখা যাচ্ছে সেখানে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে মনে করা যায়।

    অবাক হচ্ছি, যখন দেখছি গার্মেন্টস খোলা হচ্ছে অথচ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে তখন। তার মানে কি ধরে নিতে পারি আমরা যে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই কেবল করোনাভাইরাস আক্রান্তের সম্ভাবনা বেশী? অন্যদিকে, গার্মেন্টস বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানগুলোতে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা নেই?

    বাস্তব চিত্র আসলে ভিন্ন। দেশে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে যতই বলা হচ্ছে সব নিয়ন্ত্রণে, দেশে লকডাউন দিয়ে নিয়মিত ত্রাণ বিতরণ সম্ভব, পর্যাপ্ত ত্রাণ রয়েছে সরকারি ভাণ্ডারে বা অর্থ রয়েছে তহবিলে আসলে তার লক্ষণ কোনোভাবেই পরিষ্কার নয়।

    পাশাপাশি, চাল চুরির ঘটনাও দেখছি। তাহলে কোনটি সত্য আর কোনটি মিথ্যা, বোঝার কোনো উপায় নেই যে। একদিকে নির্বাচিত সদস্যদের চোখে পড়ছে না, চোখে পড়ছে বিভিন্ন স্বশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের। সব কিছুর নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে তারাই। তাই স্বাভাবিক প্রশ্ন জাগে মনে, দেশে আসলে হচ্ছেটা কি, কেউ একটু বলবেন কি?

    লেখক : জাপান প্রবাসী লেখক-সাংবাদিক।

    স্বপ্নচাষ/আরএস

    Facebook Comments

    বাংলাদেশ সময়: ১২:০১ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, ০৩ মে ২০২০

    swapnochash24.com |

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১  

    সম্পাদক : এনায়েত করিম

    সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: গুরুদাসপুর, নাটোর-৬৪৩০
    ফোন : ০১৫৫৮১৪৫৫২৪ email : swapnochash@gmail.com

    ©- 2020 স্বপ্নচাষ.কম কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত।