• সোমবার ১০ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ২৭শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

    শিরোনাম

    স্বপ্নচাষ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করতে ক্লিক করুন  

    তরমুজ ও ফুটি বিক্রি নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক

    স্বপ্নচাষ ডেস্ক

    ২৬ এপ্রিল ২০২০ ১:১০ অপরাহ্ণ

    তরমুজ ও ফুটি বিক্রি নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক

    সংগৃহীত ছবি

    করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে লকডাউন পরিস্থিতির কারণে দু’চোখে অন্ধকার দেখছেন গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার কুসুম বিশ্বাস। তার দেড় বিঘা জমির ফুটিই (বাঙ্গি) এখন অবিক্রিত। ক্ষেতেই নষ্ট হচ্ছে স্বপ্নের ফসল।

    স্বামী, এক ছেলে আর এক মেয়ে নিয়ে কুসুম বিশ্বাসের সংসার। ছেলে অষ্টম শ্রেণিতে আর মেয়ে কলেজে পড়ছে। কৃষিকাজ করেই চলে তাদের সংসার। ঝড় আর শিলা বৃষ্টিতে গত দুই বছর লোকসানে পড়ায় এবার ধার দেনা করে দেড় বিঘা জমিতে করেছিলেন ফুটির চাষ। ফলন ভাল হওয়ায় লাভবান হবার রঙ্গীন স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু করোনা যেন কেড়ে নিয়েছে তার সব স্বপ্ন।

    পুরো জেলা লকডাউন হওয়ায় কোন পাইকার আসতে না পারায় ফসল বিক্রি নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তার। একদিকে যেমন ফসল নষ্ট হওয়ার শঙ্কা, অন্যদিকে ধারদেনা শোধ করার চিন্তা। ফসল বিক্রি করতে না পারলে ছেলে মেয়ের লেখাপড়াতো বন্ধ হবেই, না খেয়েও দিন কাটাতে হবে।

    শুধু কুসুম বিশ্বাসই নয় দেবী বাড়ৈ, সমাপ্তি অধিকারী, গোলাপী অধিকারী, মৃনাল অধিকারী, ভবেন বাড়ৈসহ কোটালীপাড়া উপজেলার চর পুকুরিয়া, বরুয়া, কালিগঞ্জ, নলুয়াসহ প্রায় ২৫ গ্রামের কয়েক হাজার কৃষকের একই অবস্থা।

    তবে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, এ বছর কোটালীপাড়া উপজেলায় ৬৫০ হেক্টর জমিতে তরমুজ ও ফুটির আবাদ হয়েছে। কৃষকরা যাতে তাদের উৎপাদিত ফসল বিক্রি করতে পারে সে ব্যবস্থাও নেয়া হচ্ছে।

    মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) কোটালীপাড়া উপজেলার চক পুকুরিয়া ও বরুয়া গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, মাঠের পর মাঠ তরমুজ আর ফুটি। ফলন ভাল হয়েছে। পেকে যাওয়ায় অনেক ক্ষেত থেকেই ফল তুলছেন কৃষকেরা। সেই সাথে জমিতে পানি দিয়ে গাছ ও বাকী ফল বাঁচানো চেষ্টা করছেন কৃষাণ-কৃষানীরা।

    তরমুজ ও ফুটির বাম্পার ফলন হলেও করোনার কারণে পুরো জেলা লকডাউন ঘোষণা করায় কৃষকরা ফসল বিক্রি করতে পারছেন না। ফলে জমিতেই ফসল নষ্ট হওয়ার শঙ্কার পাশাপশি আর্থিক ক্ষতি ও ঋণ শোধ করার চিন্তায় পড়েছেন তারা।

    প্রতিবছর এখানের স্থানীয় কালিগঞ্জ বাজারে প্রায় ২শ কোটি টাকার তরমুজ ও ফুটি বিক্রি হয়ে থাকে। প্রতিদিন শতাধিক ট্রাক তরমুজ ভর্তি করে এখান থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে যায়। এ বছর আর সে চিত্রটি নেই। তরমুজ ও ফুটির আবাদকে কেন্দ্র করে কালিগঞ্জ বাজারে বসতো শতাধিক আড়ত। কিন্তু এ বছর দুই-একটি ছাড়া বাকি সব আড়ত বন্ধ।

    বরুয়া গ্রামের সমাপ্তি অধিকারী বলেন, ‘এবছর তিন বিঘা জমিতে তরমুজের চাষ করেছি। ফলনও ভাল হয়েছে। গত বছরের ক্ষতি কাটিয়ে উঠে এ বছর লাভের আশা করেছিলাম। কিন্তু লকডাউন থাকায় আমাদের ফল বাজারে বিক্রি করতে পারছি না। ফল বিক্রি করতে না পারলে কিভাবে ধার দেনাই বা শোধ করব আর কি ভাবেই বা ছেলে মেয়ে নিয়ে বাঁচব।’

    চর পুকুরিয়া গ্রামের দেবী বাড়ৈ বলেন, ‘ধার দেনা করে দেড় বিঘা জমিতে ফুটির চাষ করেছি। কিন্তু লকডাউনের কারণে বাইরের পাইকেররা আসতে পারছেন না। সেই সাথে আড়ত বন্ধ থাকায় আমাদের ফল বাজারেও নিয়ে বিক্রি করতে পারছি না। ফলে এখন জমিতে ফল নষ্ট হবার উপক্রম হয়েছে।’

    কালিগঞ্জ বাজারের আড়তদার অসীম হালদার বলেন, ‘প্রতি বছর এখানে দু’শো কোটি টাকার তরমুজ ও ফুটি বেচা কেনা হয়। আর এখানে শতাধিক আড়ত বসে। প্রতিদিনই শতাধিক ট্রাক ভরে দেশে বিভিন্ন স্থানে তরমুজ ও ফুট যায়। কিন্তু এবছর করোনার কারণে পরিস্থিতি এখন তার উল্টো। লকডাউন থাকায় এখানের দু-একটি আড়ত ছাড়া বাকি সব বন্ধ। সেই সাথে পাইকাররাও আসছেন না। এতে কৃষকদের পাশাপশি ভাল নেই আড়তদাররাও।’

    গোপালগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ডা: আরবিন্দ কুমার রায় বলেন, ‘এবছর জেলায় তরমুজ ও ফুটির বাম্পার ফলন হয়েছে। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে কৃষকরা তাদের ফসল বিক্রি করতে পারছেন না। তবে আমরা কৃষকদের আশপাশের বাজারে তরমুজ ও ফুটি বিক্রির পরামর্শ দিয়েছি। সেই সাথে পাইকাররা যাতে আসতে পারে সেজন্য ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’

    তিনি আশা করেন, করোনা কেটে গেলে শেষের দিকে কৃষকরা ভাল দাম পাওয়ার পাশাপাশি ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবেন।

    জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানা বলেন, ‘করোনাভাইরাসের কারণে কৃষকরা তাদের উপাদিত ফসল বিক্রি করতে পারছেন না। তবে কৃষকদের উদ্যোগে স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগীতায় ‘তরমুজ বাজার’ নামে একটি অনলাইনের মাধ্যমে পাইকারদের সাথে যোগাযোগ করে কৃষকরা তাদের তরমুজ ও ফুটি বিক্রি করতে পারছেন। ইতোমধ্যে অর্ধ কোটি টাকার তরমুজ ও ফুটির অর্ডার নেয়া হয়েছে।’

    তিনি বলেন, ‌‘অনলাইনের মাধ্যমে একদিকে যেমন কৃষকরা তাদের ফসল বিক্রি করতে পারছেন অন্যদিকে সামজিক দূরত্ব বজায় থাকার পাশাপশি অন্য জেলার মানুষ এ জেলায় প্রবেশ করছেন না। এতে করোনা সংক্রমণ ঝুঁকি কমে যাচ্ছে।’

    অনলাইনের মাধ্যমে তরমুজ ও ফুটি কেনাবেচার জন্য পাইকার ও ক্রেতাদের প্রতি আহবান জানান তিনি।

    স্বপ্নচাষ/আরএস

    Facebook Comments Box

    বাংলাদেশ সময়: ১:১০ অপরাহ্ণ | রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২০

    swapnochash24.com |

    advertisement

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    advertisement
    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
    ১০১১১২১৩১৪
    ১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
    ২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
    ২৯৩০৩১  
    advertisement

    সম্পাদক : এনায়েত করিম

    প্রধান কার্যালয় : ৫৩০ (২য় তলা), দড়িখরবোনা, উপশহর মোড়, রাজশাহী-৬২০২
    ফোন : ০১৫৫৮১৪৫৫২৪ email : swapnochash@gmail.com

    ©- 2021 স্বপ্নচাষ.কম কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত।