• সোমবার ২৫শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ৯ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

    শিরোনাম

    স্বপ্নচাষ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করতে ক্লিক করুন  

    টিউশনি করে পরিবার চালানো মেয়েটি করোনায় আক্রান্ত

    স্বপ্নচাষ ডেস্ক

    ২০ এপ্রিল ২০২০ ৯:৫৫ অপরাহ্ণ

    টিউশনি করে পরিবার চালানো মেয়েটি করোনায় আক্রান্ত

    সংগৃহীত

    পাঁচ মাসে আগে ঢাকার একটি কলেজ থেকে এমবিএ শেষ করে চাকরিতে ঢোকার চেষ্টা করেছেন আফরিন (ছদ্মনাম)। কিন্তু মেধাবী হয়েও চাকরি পাননি তিনি। তার সারাটা জীবন লড়াইয়ের। ছয় সদস্যের পরিবার চলে তার টিউশনির টাকায়। এর মধ্যে করোনা আতঙ্কে সবার মতো তিনিও চলে যান লকডাউনে। টিউশনি বন্ধ; তাই অভাবের সংসারে সঙ্কট আরও বেড়ে যায়।

    আফরিন নিয়মিত রক্তদাতা। গত ৩ এপ্রিল একজন মুমূর্ষু রোগীকে রক্ত দিতে চলে যান ডেল্টা হাসপাতালে। কয়েকদিন পর নিজের মধ্যে করোনার উপসর্গ বুঝতে পেরে গত বৃহস্পতিবার ঢাকার একটি হাসপাতালে পরীক্ষা করান। রিপোর্টে করোনা পজিটিভ আসে তার।

    ওই দিন হাসপাতালে যাওয়ার রিকশা ভাড়া ছিল না তার। পাশের বাসার একজনের কাছ থেকে ভাড়ার টাকা ধার নিয়েছিলেন। করোনা পজিটিভ আসায় গত শুক্রবার কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি।

    কিন্তু করোনার সঙ্গে লড়াই করা অবস্থায় পরিবারের চিন্তায় অস্থির হয়ে উঠেছেন আফরিন। পরিচিত জনদের মোবাইল করে হাসপাতালের বিছানা থেকে পরিবারের জন্য সাহায্য চেয়ে কাঁদছেন।

    জানা গেছে, আফরিন পুরান ঢাকার নারিন্দার বাসিন্দা। তার বাবা মারা গেছেন আট বছর আগে। বড় ভাই কিছু দিন প্রবাসে ছিলেন। বিদেশে ঋণগ্রস্ত হয়ে ২০১৮ সালে দেশে ফিরে বেকার হয়ে পড়েন তিনি।

    এরপর পরিবার চলে আফরিনের টিউশনির টাকায়। পরিবারে মা, ছোট বোন, ভাই-ভাবি এবং ভাতিজি রয়েছে তার। মুন্সিগঞ্জের লৌজজং উপজেলায় একসময় প্রচুর সম্পত্তি ছিল তাদের। কিন্তু নদীভাঙনে সব শেষ।

    আফরিনের বড় ভাই স্বপ্নচাষকে বলেন, সে স্বেচ্ছায় মানুষকে রক্ত দিতে ভালোবাসে। ৩ এপ্রিল ডেল্টা হাসপাতালে রক্ত দিতে গিয়েছিল আফরিন। এর আগে-পরে ঘরেই ছিল। কাউকে দোষ দিচ্ছি না। তবে ধারণা করছি এখানে থেকেই করোনায় আক্রান্ত হয়েছে আফরিন।

    তিনি বলেন, আমি অনেকদিন সৌদিতে ছিলাম। সেখানে ব্যবসা দিয়ে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ি। পরে দেশে আসি। ৭-৮ লাখ টাকা ঋণগ্রস্ত আমি। দেশে এসে কাপড়ের হকারি করে যে টাকা পাই তাতে কিছুই হয় না। আফরিন টিউশনি করে সংসার চালায়। আত্মীয়-স্বজন বড় লোক হলেও কাছে ঘেঁষতে পারি না। বোন মেধাবী তবুও একটা চাকরি হয়নি।

    আফরিনের বড় ভাই আরও বলেন, আমার বোন আমাদের সংসারের সব। সবকিছু বন্ধ হওয়ায় ঘরে খাবার নেই। আমার বোন দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুক এটাই চাই। প্রথমে মহানগর হাসপাতালে ছিল। এরপর অবস্থা অবনতি হলে কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে নেয়া হয়। ফোনে কথা বলছিলাম, সে ঠিকমতো কথা বলতে পারছে না।

    আফরিনের মা স্বপ্নচাষকে বলেন, আমি সারাজীবন না খেয়ে থাকব। তবুও আল্লাহ যেন আমার মেয়েকে সুস্থ করে দেন। আমার মেয়ে আমার সব। আমার মেয়ের কারণে আমরা বেঁচে আছি। অভাবের সংসারে মেয়ে টাকা দিলে খাই, না দিলে না খেয়ে দিন কাটাই। এমন কঠিন সময়ে আমার মেয়েটা অসুস্থ হলো। সে যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে সবাই দোয়া করবেন।

     

    স্বপ্নচাষ/এসএস

    Facebook Comments Box

    বাংলাদেশ সময়: ৯:৫৫ অপরাহ্ণ | সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২০

    swapnochash24.com |

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫
    ১৬১৭১৮১৯২০২১২২
    ২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
    ৩০৩১  
    advertisement

    সম্পাদক : এনায়েত করিম

    প্রধান কার্যালয় : ৫৩০ (২য় তলা), দড়িখরবোনা, উপশহর মোড়, রাজশাহী-৬২০২
    ফোন : ০১৫৫৮১৪৫৫২৪ email : swapnochash@gmail.com

    ©- 2021 স্বপ্নচাষ.কম কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত।