• শনিবার ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ ১১ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

    শিরোনাম

    স্বপ্নচাষ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করতে ক্লিক করুন  

    চেনা ক্যাম্পাসে অচেনা নীরবতা, প্যারিস এখন প্রাণহীন

    শাহরিয়ার সাইম

    ২৫ এপ্রিল ২০২০ ১২:০৪ পূর্বাহ্ণ

    চেনা ক্যাম্পাসে অচেনা নীরবতা, প্যারিস এখন প্রাণহীন

    রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোড

    প্যারিস রোড। নাম শুনলেই স্বপ্নের মতো মনে হয়। কল্পনায় ফুটে ওঠে ফ্রান্সের কোনো এক রাস্তা। অবশ্য রাস্তাটি দেখলেও তাই মনে হবে। কিন্তু না। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজলা গেট থেকে শের-ই-বাংলা হল পর্যন্ত যে রাস্তাটি চলে গেছে সেটিই প্যারিস রোড নামে পরিচিত।

    রাস্তাটির দুপাশে চোখ ধাঁধানো গগনশিরীষ গাছ। পিচঢালা রাস্তার দুপাশের এই আকাশচুম্বি গাছগুলো কেবল সৌন্দর্যই বৃদ্ধি করে না, লালন করে ক্যাম্পাসের বহু ইতিহাস আর ঐতিহ্য। আকৃষ্ট করে প্রকৃতিপ্রেমী হাজারো মানুষকে।

    প্যারিস রোড খ্যাত এই রাস্তা ঘিরে রয়েছে হাজারো প্রেমিক-প্রেমিকার স্মৃতি। শত শত প্রেম নিবেদনের সাক্ষী রাস্তার দু’ধারে আকাশচুম্বী গগন শিরীষ গাছগুলো। সঙ্গীর হাত ধরে এ রাস্তায় হাঁটেননি, রাবিতে এমন শিক্ষার্থী খুঁজে পাওয়া কঠিন। কিন্তু আজ সেই প্যারিস রোডে নেই কোনো প্রেম, ভালোবাসা বা গানের শব্দ। নেই বন্ধুদের সাথে গলা ফাঁটানো গান, নেই প্রেমিকযুগলও। কোলাহলমুক্ত, জনশূন্য, প্রাণহীন আজ রোডটি। শুধু প্যারিস রোডই নয়, গোটা বিশ্ববিদ্যালয়ই আজ নীরব-নিস্তব্ধ। যেন চেনা ক্যাম্পাসে অচেনা নীরবতা।

    সব কিছু যেন হারিয়ে গিয়েছে কোনো এক মহামারির অতল গভীরে। বলছি, করোনা মহামারির কথা। এর কারণে দীর্ঘদিন ধরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস বন্ধ। আবাসিক হলগুলোও বন্ধ। ফলে আজ ক্যাম্পাসে নেই কোনো শিক্ষার্থীর বিচরণ। তারা আজ ঘরবন্দি।

    বিকেল হলেই রাস্তাটির সৌন্দর্য মুহূর্তেই নজর কাড়ে সবার। কেউ যদি প্রেমিকার হাত ধরে হাঁটতে চান, ছবি তুলতে চান কিংবা ক্যাম্পাসের কোথাও ঘুরতে চান, তাহলে সবার আগেই বেঁছে নেন এই পিচঢালা সুদীর্ঘ রাস্তাটি। হয়তো ভাবছেন, রাস্তাটির নাম ‘প্যারিস রোড’ কেন হলো? এর পেছনে রয়েছে ছোট্ট একটি ইতিহাস।

    বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৬৬ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক এম শামসুর হক ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে ফিলিপাইন থেকে গগন শিরীষ গাছের চারা নিয়ে আসেন। পরে ক্যাম্পাসের কাজলা গেট থেকে শের-ই-বাংলা হল পর্যন্ত এ গাছগুলোকে রোপণ করা হয়। ধীরে ধীরে গাছগুলো রাস্তার সৌন্দর্যকে বাড়িয়ে তুলে। ফলে রাস্তাটির সঙ্গে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের রাস্তাগুলোর সঙ্গে তুলনা করে এর নামকরণ করা হয় ‘প্যারিস রোড’।

    এদিকে, করোনার কারণে বন্ধ ক্যাম্পাসে নির্জন ও কোলাহলমুক্ত পরিবেশ পেয়ে প্রকৃতি সেঁজেছে এক অপরূপ সাজে। যেন গায়ের পুরনো পোশাক পরিবর্তন করে নতুন পোশাকে আচ্ছন্ন হয়েছে গাছগুলো। শুকনো পাতা ঝরে গজিয়েছে নতুন কচি কচি পাতা। আর সেই নতুন প্রকৃতি পেয়ে মনের সুখে ও প্রেমের সুরে গান ধরেছে পাখিরা। তাদের কিচিরমিচির শব্দে চারদিক যেন জমজমাট গানের আসর।

    গাছের ডালে ডালে লাফিয়ে বেড়াচ্ছে কাঠবিড়ালী, কাঠ ঠুকছে কাঠ-ঠুকরা। বড় বড় গাছের শাখা ধরে ঝুলছে বাদুরের দল। অতিথি পাখিগুলো ঝাঁকে ঝাঁকে পড়ছে পুকুরে। খেলা করছে মনের আনন্দে। বসন্ত নেই, তবুও নিজের মতো করে জায়গা দখল করে আছে তারা। এ যেন এক স্বর্গের রাজ্য। আর এ রাজ্যের রাজত্ব শুধু পশু-পাখি ও গাছ-গাছালিদের।

    তবে পুরো ক্যাম্পাস ফাঁকা পড়ে থাকায় প্যারিস রোডটি প্রেম খুঁজে বেড়াচ্ছে। শূন্যতায় হাহাকার করছে রাস্তাটি। ইবলিশ চত্বরের ওপাশটায় কেউ নেই। বিকেলটা একেবারে নিরস-নিস্তব্ধ। অথচ কিছুদিন আগেও এ রাস্তায় প্রেমিকার হাত ধরে হেঁটেছেন বহু প্রেমিক। কিন্তু আজ আর কাউকে দেখা যায় না। শুধু শূন্যতা বিরাজ করছে ক্যাম্পাসে। এ যেন প্রাণহীন প্যারিস রোড, নিষ্প্রাণ ক্যাম্পাস।’

    স্বপ্নচাষ/আরএস

    Facebook Comments

    বাংলাদেশ সময়: ১২:০৪ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২০

    swapnochash24.com |

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  

    সম্পাদক : এনায়েত করিম

    সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: গুরুদাসপুর, নাটোর-৬৪৩০
    ফোন : ০১৫৫৮১৪৫৫২৪ email : swapnochash@gmail.com

    ©- 2020 স্বপ্নচাষ.কম কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত।