• শনিবার ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ ১১ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

    শিরোনাম

    স্বপ্নচাষ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করতে ক্লিক করুন  

    চট্টগ্রামে আম্ফান মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুত

    স্বপ্নচাষ ডেস্ক

    ১৯ মে ২০২০ ১১:৫৭ পূর্বাহ্ণ

    চট্টগ্রামে আম্ফান মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুত

    প্রবল শক্তি নিয়ে ধেয়ে আসা সুপার সাইক্লোন ‘আম্ফান’ এর সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি ও ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন সেবাসংস্থা। মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল থেকে জেলার উপকূলীয় উপজেলাগুলোতে সতর্কতামূলক মাইকিং করা হয়েছে। খোলা হয়েছে নিয়ন্ত্রণকক্ষ।

    চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ইলিয়াস হোসেন বলেন, ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের এর সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় চট্টগ্রামে প্রস্তুত রাখা হয়েছে ৪৭৯টি আশ্রয়কেন্দ্র। এছাড়া আরও প্রায় চার হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। মজুত করা হয়েছে শুকনো খাবার। গঠন করা হয়েছে মেডিকেল টিম।

    এদিকে জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি অন্যান্য সংস্থাও ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি ও ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে।

    নৌবাহিনীর পক্ষ জানানো হয়েছে, ঘূর্ণিঝড় আম্ফান পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি উদ্ধার, ত্রাণ ও চিকিৎসা সহায়তায় চট্টগ্রামে তিনটি ও সেন্টমার্টিনে দুটি যুদ্ধজাহাজসহ নৌ কন্টিনজেন্ট ও মেডিক্যাল টিম মোতায়েনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

    এছাড়া মধ্য বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত নৌ-বাহিনী ও কোস্টগার্ডের সকল জাহাজ নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। চট্টগ্রামের কুমিরা ঘাট থেকে সন্দ্বীপ ও হাতিয়ায় নৌ-যান চলাচল বন্ধ করা হয়েছে। ‘অ্যালার্ট-৩’ জারি করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।

    বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের বহিঃনোঙরে ও কর্ণফুলী নদীতে মোট ১৬০টি জাহাজ অবস্থান করছে। এর মধ্যে বড় জাহাজগুলোকে (মার্চেন্ট শিপ) কুতুবদিয়া ও সেন্টমার্টিন উপকূলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ঘূর্ণিঝড় চলাকালে জাহাজগুলোর ইঞ্জিন চালু রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া লাইটারেজ ও মাছ ধরার ছোট জাহাজগুলোকে কর্ণফুলী নদীর শাহ আমানত সেতুর উজানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

    চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব মো. ওমর ফারুক জানান, চট্টগ্রাম বন্দরে তিনটি ঘূর্ণিঝড় নিয়ন্ত্রণকক্ষ খোলা হয়েছে। এর মধ্যে নৌবিভাগের নিয়ন্ত্রণকক্ষের নম্বর : ০৩১-৭২৬৯১৬। পরিবহন বিভাগের নিয়ন্ত্রণকক্ষের নম্বর : ০৩১-২৫১০৮৭৮ এবং বন্দর সচিবের নিয়ন্ত্রণকক্ষের নম্বর : ০৩১-২৫১০৮৬৯।

    চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের সূত্রে জানা গেছে, বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত প্রবল ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের সম্ভ্যাব্য আঘাত ও ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় গতকাল সন্ধ্যা ৬টায় সার্কিট হাউজে জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় বিভিন্ন সেবাসংস্থার প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

    জেলার আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে প্রায় আট লাখ মানুষ আশ্রয় নিতে পারবেন। এর মধ্যে ৪৭৯টি আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিতে পারবেন পাঁচ লাখ মানুষ। এছাড়া দুই হাজার ২৬৯টি প্রাথমিক এবং এক হাজার ২৫০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আরও তিন লাখ লোক আশ্রয় নিতে পারবেন।

    এছাড়া ত্রাণসামগ্রীর মধ্যে দুই হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার, ৩৪৯ মেট্রিক টন চাল, ৬৮১ বান্ডিল ঢেউটিন এবং ৫০০টি তাঁবু মজুত রাখা হয়েছে। যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে জেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণকক্ষের ফোন নম্বর: ০৩১-৬১১৫৪৫, ০১৭০০-৭১৬৬৯১ এ যোগাযোগ করা যাবে।

    চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির জানান, চট্টগ্রামে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পক্ষ থেকে ২৮৪টি মেডিকেল টিম গঠন করেছে। সিভিল সার্জনসহ স্বাস্থ্য বিভাগের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর কর্মস্থল ত্যাগ না করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এছাড়া সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে ১৯৪টি অ্যাম্বুলেন্স এবং পর্যাপ্ত স্যালাইন ও ওষুধ প্রস্তুত রাখা হযেছে।

    করোনা নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। একদিকে সুপার স্ট্রম দেশে আঘাত হানছে, অপরদিকে করোনা। দেশের প্রায় ১৯ জেলায় সরাসরি ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব পড়বে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব বেশি থাকবে। মানুষকে রক্ষায় বহুসংখ্যক মানুষকে শেল্টারগুলোয় নেয়া হবে। এ সময় সাইক্লোন সেন্টারগুলোয় সামাজিক দূরত্ব মানানো দুরূহ বিষয়। ফলে করোনার সংক্রমণ ঝুঁকি তৈরি হবে। সে কারণে নাগরিকদের প্রতি বিশেষ পরামর্শ, সেখানে অবস্থানকারীরা ১০০ ভাগ যেন মাস্ক ব্যবহার করেন।’

    তিনি আরও বলেন, ‘সাইক্লোন সেন্টারগুলোতে স্বাস্থ্যবিভাগের পক্ষ থেকে যথাসাধ্য স্বাস্থ্যকর্মী রাখার চেষ্টা করা হবে। এছাড়াও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব হবে এ বিষয়ে দেখভাল করা। শেল্টারগুলোতে যেহেতু সোশ্যাল ডিসট্যান্স বজায় রাখা কষ্টকর, তাই মাস্ক ব্যবহার করলে সংক্রমণ কিছুটা হলেও কমানো সম্ভব হবে।’

    চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন সেখ ফজলে রাব্বি জানান, জেলায় ২৮৪টি মেডিক্যাল টিম, দুই লাখ পিস পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, দেড় লাখ খাবার স্যালাইন ও পর্যাপ্ত জরুরি ওষুধ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

    তিনি বলেন, ‘উপকূলীয় এলাকার করোনা আক্রান্ত রোগী এবং লকডাউন করা বাড়ির লোকজনদের নিকটবর্তী আইসোলেশন কেন্দ্রে নেয়া হবে এবং আশ্রয়কেন্দ্রে তাদের জন্য বিশেষ কক্ষের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।’

    চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘এবার যেহেতু সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে কোভিড-১৯ এর কারণে, তাই আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে সংশ্লিষ্ট এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকেও প্রস্তুত রাখা হবে। এছাড়া সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য কে কোন আশ্রয়কেন্দ্রে যাবে তারও তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে প্রতিটি ওয়ার্ডে থাকা স্কুল-কলেজ-মাদরাসা ব্যবহার করা হবে এবং বাড়ির কাছে থাকা স্থাপনাকে অগ্রাধিকার দিয়ে এই তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে।’

    এদিকে সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স নিজস্ব জনবল ছাড়াও প্রস্তুত রেখেছে স্বেচ্ছাসেবকদের।

    জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) ছয় হাজার ৬৬০ জন স্বেচ্ছাসেবক ও রেড ক্রিসেন্টের ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবকও প্রস্তুত আছেন উপকূলীয় এলাকায়। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলের পক্ষ থেকে ৫০ হাজার পিস পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট এবং এক হাজার ৪০০ পিস হাইজিন কিডস মজুতের খবর পাওয়া গেছে। সংগ্রহ করা হচ্ছে আরও এক লাখ পিস পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট। সচল রাখা হয়েছে টিউবওয়েলগুলো।

    মাঠে থাকা ফসল যাতে নষ্ট না হয় সে জন্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরকে নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নিতে তাগিদ দেয়ার পাশাপাশি কৃষকের পাকা ধান দ্রুত কেটে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

    চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) উপকূলীয় এলাকা এবং পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থানরত জনসাধারণের মাঝে সচেতনতার জন্য মাইকিং শুরু করেছে। সম্ভাব্য দুর্যোগপরবর্তী সময়ের জন্য শুকনো খাবার, পর্যাপ্ত সুপেয় পানির ব্যবস্থা এবং চিকিৎসা সেবাদানের জন্য মেডিকেল টিম ও পর্যাপ্ত ওষুধপত্র প্রস্তুত রেখেছে চসিক।

    এছাড়া দুর্যোগ পূর্ববর্তী, দুর্যোগকালীন ও দুর্যোগ পরবর্তী সময়ে অবস্থানের জন্য উপকূলীয় এলাকায় চসিক পরিচালিত সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সর্বদা প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় সম্পর্কিত যেকোনো তথ্য ও সহযোগিতার প্রয়োজনে কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য চসিকের পক্ষ থেকে নগরবাসীকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

    চসিকের কন্ট্রোল রুমের ফোন নম্বরগুলো হলো: ০৩১-৬৩০৭৩৯, ০৩১-৬৩৩৬৪৯।

    এছাড়া চট্টগ্রাম নগর পুলিশ তাদের সদর দফতরে জরুরি নিয়ন্ত্রণকক্ষ খুলেছে। এছাড়া দুর্যোগকালীন জরুরি সেবা প্রদানের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে সিএমপির সকল থানার অফিসার ইনচার্জসহ সকল স্তরের পুলিশ সদস্যদের সিএমপি কমিশনারের পক্ষ থেকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে নগরবাসীকে নিয়ন্ত্রণকক্ষের নম্বরে (০১ ৪০০ ৪০০ ৪০০ ও ০১৮ ৮০ ৮০ ৮০ ৮০) যোগাযোগ করতে সিএমপির পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছে।

    উল্লেখ্য, খুলনা ও চট্টগ্রামের মধ্যবর্তী অঞ্চল দিয়ে আজ মঙ্গলবার (১৯ মে) শেষরাতে আঘাত হানতে পারে সুপার সাইক্লোন আম্ফান। তারপর থেকে বুধবার (২০ মে) বিকেল/সন্ধ্যার মধ্যে বাংলাদেশের উপকূল অতিক্রম করতে পারে ভয়ঙ্কর শক্তিশালী এই ঘূর্ণিঝড়। এ সময় ৫ থেকে ১০ ফুট অধিক উচ্চতায় জলোচ্ছ্বাস হতে পারে। মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল ৯টা পর্যন্ত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।

    স্বপ্নচাষ/আরএস

    Facebook Comments

    বাংলাদেশ সময়: ১১:৫৭ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২০

    swapnochash24.com |

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  

    সম্পাদক : এনায়েত করিম

    সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: গুরুদাসপুর, নাটোর-৬৪৩০
    ফোন : ০১৫৫৮১৪৫৫২৪ email : swapnochash@gmail.com

    ©- 2020 স্বপ্নচাষ.কম কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত।