• রবিবার ৯ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ২৬শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

    শিরোনাম

    স্বপ্নচাষ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করতে ক্লিক করুন  
    করোনাকালে সরকারি-বেসরকারি অফিস

    কোথাও ঢিলেঢালা কোথাও ফাঁকিবাজি

    স্বপ্নচাষ ডেস্ক

    ১১ জুন ২০২০ ৮:০০ পূর্বাহ্ণ

    কোথাও ঢিলেঢালা কোথাও ফাঁকিবাজি

    পুরনো অর্থবছর ও নতুন অর্থবছরের সন্ধিক্ষণে থাকা জুন মাস প্রতিবছরই গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ের গুরুত্বকে বিবেচনায় রেখেই ঝুঁকির মধ্যেও সব কিছু খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। টানা দীর্ঘ সাধারণ ছুটির পর সরকারি-বেসরকারি অফিস খুললেও কাজের কাজ তেমন হচ্ছে না। ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক কাজে যাঁরা বিভিন্ন দপ্তরে যাচ্ছেন তাঁদের কেউ প্রত্যাশিত সেবা পাচ্ছেন না। বিশেষ করে আর্থিক লেনদেন সম্পর্কিত ফাইলের কাজে বিলম্ব নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বাধাগ্রস্ত হচ্ছে অন্যান্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও।

    গোলাম মোহতামীম নাঈম ঢাকায় একটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। কিছুদিন আগে মালদ্বীপে আরো ভালো একটি চাকরির প্রস্তাব পেয়েছেন তিনি। তাঁর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক সনদপত্র ওই দেশে পাঠাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষা বোর্ড ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সত্যায়ন প্রয়োজন। সরকারি অফিস খুললেও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে তিনি কাজ করাতে পারছেন না।

    গতকাল বুধবার নাঈম বলেন, ‘যেখানেই যাচ্ছি ঠিকমতো কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে এক টেবিলে কাজ হলে অন্য জায়গায় আটকে থাকছে।’

    একাধিক গণমাধ্যম অফিসের হিসাব বিভাগে কথা বলে জানা গেছে, যে অফিসেই তাঁরা তাগিদ পাঠাচ্ছেন সেখানেই ফাইল আটকে থাকার তথ্য পাচ্ছেন। কর্মকর্তারা অফিস না করায় ফাইল ছাড়ানো যাচ্ছে না।

    অফিসেই তাঁরা তাগিদ পাঠাচ্ছেন সেখানেই ফাইল আটকে থাকার তথ্য পাচ্ছেন। কর্মকর্তারা অফিস না করায় ফাইল ছাড়ানো যাচ্ছে না।

    সচিবালয়সহ সরকারি-বেসরকারি একাধিক অফিসসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, করোনার আতঙ্ক তো আছেই। এর মধ্যে অনেকে করোনার ‘ভুয়া সনদ’ দেখিয়ে অফিস ফাঁকি দিচ্ছেন। এ কারণে সরকারি-বেসরকারি অফিসগুলোতে কাজে গতি নেই, সমন্বয়হীনতা সর্বত্র। সেবা পেতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে মানুষকে।

    কোনো কোনো ক্ষেত্রে ফাঁকিবাজির নতুন চিত্রও দেখা গেছে। সরকারি অফিস খোলার পর অনেক দপ্তরের কক্ষ খোলা রেখে, লাইট-ফ্যান চালিয়ে রাখা হয়, যাতে মনে হয় লোকজন আছে। কিন্তু বাস্তবে কেউ থাকে না।

    সরকারি অফিস খুললেও কেন দরকারি কাজ হচ্ছে না তার খোঁজ নিতে গিয়ে জানা গেছে, সরকারি একটি ফাইলে সাধারণত একই শাখার একাধিক কর্মকর্তার স্বাক্ষর লাগে। সেই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ফাইলটির কাজ যদি অন্য আরেকটি শাখায়ও থাকে তখন দুই শাখার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিত থাকতে হয়। কিন্তু এই সময়ে একটি শাখার সব কর্মকর্তাই অফিস করছেন না। সেখানে একাধিক শাখার সবাইকে পাওয়া কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে প্রয়োজনীয় কাজের বেশির ভাগই হচ্ছে না। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেন সম্পর্কিত কাজে বেশি সমস্যা হচ্ছে। এ ধরনের ফাইলে বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর প্রয়োজন হয়। ফলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের লোকজন ঘোরাঘুরি করেও কোনো সমাধান পাচ্ছে না। অথচ জুন মাসটি দেশের অর্থবছরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি মাস।

    কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনুপস্থিতির জন্য শুধু সেবাপ্রার্থীরাই অসুবিধায় পড়ছে না, কিছু ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানপ্রধানরাও বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ছেন। তাঁরা বলছেন, অফিসাররা ঠিকমতো অফিস না করায় অতি প্রয়োজনীয় কাজগুলোও ঠিকমতো হচ্ছে না। গত কয়েক দিনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরে ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের ক্ষয়ক্ষতির হিসাব জানতে প্রতিষ্ঠানটির একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করেও পাওয়া যায়নি।

    নিয়ম অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়ের ১৪ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট জেলা থেকে আসা বিস্তারিত তথ্য একসঙ্গে করে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার জন্য পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করা হয়। আম্ফানের আঘাতের পর ২০ দিন হয়ে গেলেও এখনো পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তৈরি করতে পারেনি অধিদপ্তর।

    দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মোহসীনের কাছে জানতে চাইলে তিনি লোকবল সংকটের কারণে অনেক কাজ শেষ করতে পারছেন না বলে স্বীকার করেন। গতকাল বুধবার তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যা অফিস করি। কিন্তু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অনেকে ভয়, জ্বর, অসুস্থ নানা কথা বলে অফিসে আসছেন না। এ কারণে কিছুটা সময় লাগছে।’

    করোনাকালেও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরিতে সুযোগ-সুবিধা ও পদোন্নতির ধারা থামেনি। এ ছাড়া সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য আলাদা অত্যাধুনিক হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। করোনার সময়ে সাধারণ মানুষের ঠিকমতো চিকিৎসা পেতে সমস্যা হচ্ছে। হাসপাতালে ঘুরেও ভর্তি হতে পারছে না। কিন্তু সরকারি চাকুরেদের জন্য করোনাকালেও বিশেষ প্রণোদনা ঘোষণা করা হয়েছে। কোনো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী করোনা আক্রান্ত বা মারা গেলে লাখ লাখ টাকার প্রণোদনা পাবে তাঁর পরিবার। এত সুযোগ-সুবিধার পরও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অফিস না করার কারণ বুঝতে পারছে কেউ।

    জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন গতকাল বলেন, ‘যত কম কর্মকর্তা-কর্মচারী দিয়ে অফিস চালানো যায় সেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু অফিসে যাঁরা উপস্থিত থাকবেন তাঁরা যেন জরুরি প্রয়োজনীয় সব কাজ করতে পারেন সে বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া আছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘আরেকজন অফিসার উপস্থিত নেই বলে কাজ ফেলে রাখা যাবে না। তিনজনের কাজ একজনকে করতে হবে।’

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘যদি কোনো সরকারি অফিসে জরুরি প্রয়োজনীয় কাজ করাতে সমস্যা হয় তাহলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানান। সেখানে সমাধান না হলে আমাদের মন্ত্রণালয়ে জানান, ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

    স্বপ্নচাষ/আরএস

    Facebook Comments Box

    বাংলাদেশ সময়: ৮:০০ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২০

    swapnochash24.com |

    advertisement

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    advertisement
    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
    ১০১১১২১৩১৪
    ১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
    ২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
    ২৯৩০৩১  
    advertisement

    সম্পাদক : এনায়েত করিম

    প্রধান কার্যালয় : ৫৩০ (২য় তলা), দড়িখরবোনা, উপশহর মোড়, রাজশাহী-৬২০২
    ফোন : ০১৫৫৮১৪৫৫২৪ email : swapnochash@gmail.com

    ©- 2021 স্বপ্নচাষ.কম কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত।