• মঙ্গলবার ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ ৭ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

    শিরোনাম

    স্বপ্নচাষ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করতে ক্লিক করুন  

    করোনা পরবর্তী সময়ে ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহ

    স্বপ্নচাষ ডেস্ক

    ২৪ এপ্রিল ২০২০ ১১:০৮ অপরাহ্ণ

    করোনা পরবর্তী সময়ে ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহ

    প্রতীকী ছবি

    ‘তাদেরকে ছাড়, তারা খাওয়া-দাওয়া ও ভোগ করতে থাকুক এবং আশা তাদেরকে মোহাচ্ছন্ন রাখুক, অচিরেই তারা জানতে পারবে। আমি কোনো জনপদকে ধ্বংস করি তাদের জন্য রয়েছে একটি নির্দিষ্ট লিপিবদ্ধ কাল। কোনো জাতি তার নির্দিষ্ট কালকে তরান্বিত করতে পারে না, বিলম্বিতও করতে পারে না।’ [সুরা হিজর, আয়াত: ৩-৫]

    করোনা পরবর্তী বিশ্ব কোন্ পরিস্থিতির সম্মুখীন হবে আমরা কেউ বলতে পারি না। তবে আমাদের জন্য হয়ত ভিন্ন এক পৃথিবী অপেক্ষা করছে সামনের দিনগুলোয়।

    মাত্র চার মাসেই পুরো পৃথিবী বদলে গেছে। আরও কত বদলাবে তা বলা যাচ্ছে না এখনই। পরিবর্তন ইতিমধ্যেই অনেক হয়েছে। অবশ্য পরিবর্তনগুলো আমাদের চোখে প্রকট হতে আরও সময় লাগবে।

    লকডাউন হয়ে আছে পৃথিবীর বড় বড় শহর। নিউ ইয়র্ক, বেইজিং, রোম, লন্ডন, প্যারিস, দিল্লি, লাহোর ও ঢাকা। প্রায় শত বছর ধরে যে সব শহর সরগরম ছিল সব বন্ধ হয়ে আছে। মানুষের ভেতর দিন দিন হতাশা আর হাহাকার গেঁড়ে বসছে।

    অর্থনৈতিক এক বড় বিপর্যয় যে আমাদের দিকে এগিয়ে আসছে তা সারা বিশ্বের মানুষই উপলব্ধি করতে পারছে। কথা উঠছে বিশ্ব নেতৃত্ব নিয়েও। পশ্চিম আর পূর্বে যে দীর্ঘ দ্বন্দ্ব তাও নতুন করে সামনে আসছে। হয়ত শেষ হয়ে আসছে পশ্চিমের সুদিন।

    আমেরিকা করোনা মুকাবিলায় ব্যর্থ হলে চীনের জন্য রাস্তা ছেড়ে সরে দাঁড়াতে হবে বিশ্বের নেতৃত্ব থেকে।
    প্রতিটি জাতির একটি উত্থান ও পতনের নির্দিষ্ট ক্ষণ থাকে। সূরা হিজরে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা এ কথাটিই বলেছেন। কারো উত্থান দেখে খুব ঈর্ষান্বিত হতে নেই। নির্ধারিত সময়ে তার পতন এসে যাবে। মানুষের আসল কাজ হচ্ছে নিজেদের মনুষ্যত্ব ও মূল্যবোধের উৎকর্ষ সাধন।

    এক জীবনে আর কিছু নয় কেবল সত্যিকার মানুষ হয়ে ওঠার সাধনা করাই মানব-জীবনের লক্ষ্য।

    করোনাভাইরাস পরবর্তী পৃথিবীর কী হবে এ নিয়ে অনেকেই ভাবছেন। আমরা যা ভাবছি পরিস্থিতি তার চেয়ে আরও বেশি ভয়াবহ হতে পারে। বিশ্বের সার্বিক পরিস্থিতির সঙ্গে করোনা পরবর্তী ইসলাম ও মুসলমানদের কী হবে তা-ও ভাবার মতো বিষয়।

    প্রায় একশত বছর আগে মুসলমানদের সর্বশেষ খিলাফাহ শেষ হয়েছে। অটোমান সাম্রারাজ্য নামে যা পরিচিত ছিল। তুরস্ক ও তুর্কি জাতি যে খিলাফাহর নেতৃত্ব দিত।

    প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর তা ভেঙ্গে পড়ে। কামাল আতাতুর্কের নেতৃত্বে নতুন এক তুরস্ক গড়ে ওঠে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ধীরে ধীরে ঔপনিবেশিক শক্তিসমূহ থেকে মুক্তি পায় মুসলিম বিশ্বের দেশগুলো।

    অর্ধশতের অধিক মুসলিম প্রধান দেশ স্বাধীনতা লাভ করে। এ সব দেশে নানা ফেরকার লোকেরা ধর্মের নামে রাজনীতি করে পুরো সত্তর বছর পার করে দিয়েছে। এই পুরো সময়টা ছিল চরম অস্থিরতার। এখন মনে হচ্ছে একটা স্থিরতার সময় এসে গেছে।

    ইসলামের নামে রাজনীতি নয়, সত্যিকার ইসলামের চর্চায় মনোনিবেশ করতে চায় আজকের মুসলিম। করোনা পরবর্তী পৃথিবীতে আরও বেশি সচেতনতা দেখা যাবে মুসলমানদের ভেতর।

    পশ্চিমে এতদিন ইসলামোফোবিয়া ছড়ানো হয়েছে। এই ইসলাম ভীতির দিনও হয়ত শেষ হবে করোনার পর। এখন ইসলামকে নয় সাধারণ মানুষ ভয় পাচ্ছে ভাইরাসকে। ইসলাম যে কোনো ভয়ের বিষয় নয় তা সবার সামনেই এ সময়ে পরিস্ফূট হবে। ইসলামের অনুসারীরা পৃথিবীর সবখানেই এ সময়ে অন্য ধর্মের মানুষের চেয়ে সেবায় ভালো ভূমিকা রাখতে পারলে ইসলামের সুন্দর এক প্রভাব পড়বে। ইউরোপ আমেরিকার মুসলিমদের বিভিন্ন ভালো গুণের কথা আমরা শুনতে পাচ্ছি।

    আমরা এক গুরুত্বপূর্ণ সময় পার করছি এখন। বিশ্ববাসীর সামনে প্রকৃত ইসলামের সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলার মোক্ষম সময় এটি। এখনও অনেকে ইমাম মাহদি নিয়ে গুজব ছড়ানোয় ব্যস্ত। ইসলামের নামে অবাস্তব তথ্য ছড়িয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে নির্বোধ কিছু সোশ্যাল এক্টিভিটিস।

    ইসলাম বাস্তবধর্মী ধর্ম। বাস্তবমুখি হতে হবে আজকের মুসলিমকে। তাহলে খুব সহজেই আধুনিক পৃথিবীর মানুষকে ইসলামের সুশীতল ছায়ায় আকৃষ্ট করা সহজ হবে। ধর্মান্ধতা ও গুজব না ছড়িয়ে ইসলামের মানবিক সুন্দর দিকগুলো তুলে ধরুন। বিবেকবান মানুষ দুর্যোগের সময় সত্যের কাছে আসতে বেশি আগ্রহ রাখে। দুর্যোগ শেষেও ক্ষুধার্ত পীড়িত ও রোগাক্রান্ত মানুষ সত্যের সন্ধানে আপনার কাছে আসবেই।

    চীন ও আমেরিকার ওপর রাজত্ব করার মানসিকতা ত্যাগ করুন। তার চেয়ে বরং চীন ও আমেরিকার মানুষকে ইসলামে দীক্ষিত করার চিন্তা করুন। এটা অধিক ইসলামিক চিন্তা হবে। শক্তি প্রয়োগ করে নয় বরং প্রেম ভালোবাসা, মানবিক গুণাবলি ও সেবার মাধ্যমে মানুষের হৃদয় জয় করার চেষ্টা করুন।

    কবে ইমাম মাহদি আসবে সে অপেক্ষায় সময় নষ্ট না করে প্রতি মুহূর্তে নিজের ও বিশ্ব মানবতার কল্যাণ-চিন্তার মাধ্যমেই আমরা পারি আমাদের ইসলামের প্রসার ঘটাতে। একজন মুসলিম তার আচার-আচরণ ও নীতি নৈতিকতার উৎকর্ষ সাধনের মাধ্যমে অন্য ধর্মের অনুসারীদের মুগ্ধ মোহিত করতে পারে। কাছে টানতে পারে দূরের মানুষদের।

    সপ্তম শতকে বাগদাদের পতনের পর সে সময়ের মুসলিমরা এমনটিই করেছিল। তাতারিরা বিজয়ী জাতি হওয়া সত্ত্বেও বিজীত মুসলিমদের কৃষ্টি-কালচারে এমনিতে প্রভাবিত হয়নি।

    সে সময়ের মুসলিমরা তাতারিদের ওপর রাজত্বের চিন্তা না করে নিজেদের ধর্মের সুন্দর দিকগুলো তাদের সামনে তুলে ধরেছিল নিজেদের সুন্দর ব্যবহার ও উন্নত মানবিক মূল্যবোধের মাধ্যমে।

    যার ফলে মাত্র পঞ্চাশ বছরেই ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হয়ে গিয়েছিল পুরো তাতারি জাতি। এর পরও তাতারিরা মুসলিম বিশ্বে রাজত্ব করেছে কিন্তু তাদের পূর্বের ধর্ম পরিচয়ে নয় বরং মুসলিম জাতির অংশ হয়েই তারা মুসলমানদের শাসন করেছে।

    বাগদাদের খেলাফত ধ্বংস হওয়ার পর সে সময়ের মুসলিমরা যে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে তুর্কি খেলাফত ধ্বংসের পর আমরা বর্তমান মুসলিমরা সেরকম বিবেচনার পরিচয় দিতে পারিনি। এভাবে একশত বছর পেরিয়ে গেছে।

    একশত বছর আমরা আমাদের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে চেয়েছি। আবারও পৃথিবীকে শাসন করার বাসনা পেয়ে বসেছে। প্রকৃত মুসলিম হওয়ার বাসনা আমাদের ভেতর আজও বাসা বাঁধেনি। সত্যি দুঃখজনক।

    একজন মুসলিমকে আজ ভালো মানুষ হাওয়ার নসিহত করা যায় না। তাকে খাঁটি মুসলিম হতে বললেই সে রেগে যায়। সবার আগে নিজেকে ঠিক করতে হবে এই ছিল নবীজীর শিক্ষা।

    নবীজী বলেন, ইবদা বি নাফসিকা। নিজেকে দিয়ে শুরু করো। তারপর তোমার পরিবার তারপর বাকি বিশ্ব। কু আনফুসাকুম ওয়া আহলিকুম নারা। পবিত্র কুরআনেও বলা হয়েছে, তোমরা নিজেদের তারপর তোমাদের পরিবারকে আগুন থেকে রক্ষা কর।

    করোনা পরবর্তী পৃথিবীতে অর্থনৈতিক সংকটে পড়বে মানুষ। চরম বিলাসিতায় অবাস্তব ও কল্পনার পেছনে ছোটে বেকার মস্তিষ্ক। যখন সংকটে ও দূরাবস্থায় পড়বে তখন ঠিকই কিছুটা বাস্তববাদি হতে হবে আমাদের সবাইকে। ইসলামের নামে বিভিন্ন ফেরকার বিভিন্ন মতবাদ ছড়ানোও কমবে তখন।

    আর হয়ত ইসলামের সুদিন আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে সেই দুঃসময়ের ভেতর। এটা তাহলে মুসলিম উম্মাহর জন্য আশা জাগানিয়াই বলা যায়।

    ‘চীন ও ইতালিতে দলে দলে মানুষ ইসলাম গ্রহণ করছে। চীনের রাজারাও ইসলামের কথা বলছে। যারা মসজিদ বন্ধ করেছিল তারাই এখন মসজিদে গিয়ে ইবাদত করছে। মুসলমানদের করোনা হতে পারে না। তারা কুরআনের জাতি। কুরআনের বিভিন্ন সুরায় করোনার কথা আছে।’ এমন কত যে গুজব রটানো হয়েছে সমাজে তার ইয়ত্তা নেই।

    এ ধরনের গুজব ও অবাস্তব খবরে খুশি না হয়ে সত্যিকার খুশির খবর আমরা আগামী দিনে তৈরি করতে পারব ইনশাল্লাহ। করোনা পরবর্তী বিশ্ব ইসলাম প্রচারে সহায়ক স্বাভাবিক ও সহনশীল এক পৃথিবী হবে বলেই আমাদের প্রত্যাশা।

    আল্লাহ আমাদের সহায় হোন। স্ট্যান্টবাজি ত্যাগ করে আমরা যেন মানবিক বোধের পরিচয় দিতে পারি প্রতিটি ক্ষেত্রে। উম্মতে মুসলিমাকে আল্লাহ তায়ালা উপলব্ধির শক্তি নসিব করুন। ফিরিয়ে দিন সুস্থ সুন্দর হৃদয়বৃত্তি। আমীন।

    স্বপ্নচাষ/আরএস

    Facebook Comments

    বাংলাদেশ সময়: ১১:০৮ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২০

    swapnochash24.com |

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  

    সম্পাদক : এনায়েত করিম

    সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: গুরুদাসপুর, নাটোর-৬৪৩০
    ফোন : ০১৫৫৮১৪৫৫২৪ email : swapnochash@gmail.com

    ©- 2020 স্বপ্নচাষ.কম কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত।