• শনিবার ২৪শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ ৮ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

    শিরোনাম

    স্বপ্নচাষ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করতে ক্লিক করুন  

    করোনার নমুনা দিয়েই পালালেন তিনি

    স্বপ্নচাষ ডেস্ক

    ০৫ মে ২০২০ ৪:৪৩ পূর্বাহ্ণ

    করোনার নমুনা দিয়েই পালালেন তিনি

    ফাইল ছবি

    শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলায় দুই ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁদের একজন একটি মামলায় আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে করোনার নমুনা দিয়েই পালিয়ে যান। আক্রান্ত হওয়ার খবর পেয়ে তাঁকে খুঁজে পাচ্ছে না স্বাস্থ্য বিভাগ ও পুলিশ। সংক্রমিত আরেক নারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক সেবিকার (নার্স) বাসার কাজের বুয়া।

    সোমবার দুপুরে ওই দুজনের করোনা পজিটিভ থাকার কথা জানতে পারে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। তবে ওই ব্যক্তিকে মুঠোফোনে না পেয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা তাঁর বাড়িতে যান। কিন্তু তাঁকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। তিনি কোথায় আছেন, তা–ও জানাতে পারেননি পরিবারের সদস্যরা।

    উপজেলা স্বাস্থ্য প্রশাসন ওই নার্সসহ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চারজন কর্মীর বাসা লকডাউন করেছে। আর ওই নার্স ও আক্রান্ত নারীর সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে।

    গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য প্রশাসন ও থানা সূত্র জানায়, গোসাইরহাটের আলওয়ালপুর ইউনিয়নের একটি গ্রামের বাসিন্দা নারায়ণগঞ্জে থাকেন। তিনি একটি যৌতুকের মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি। গত ২৯ এপ্রিল ওই ব্যক্তি গ্রামের বাড়িতে আসেন। খবর পেয়ে ৩০ এপ্রিল পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে শরীয়তপুর জজ আদালতে পাঠায়। ওই ব্যক্তি নারায়ণগঞ্জ থেকে এসেছেন, এমন তথ্য জানতে পেরে আদালতের বিচারক তাঁকে জামিনে মুক্তি দেন। তখন গোসাইরহাট থানার পুলিশ ওই ব্যক্তিকে নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান। চিকিৎসকেরা তাঁর নমুনা সংগ্রহ করে আইইডিসিআরে পাঠান। ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের সঙ্গে যুক্ত গোসাইরহাট থানার পাঁচজন পুলিশ সদস্যের নমুনাও সংগ্রহ করে পাঠানো হয়।

    জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের রোগনিয়ন্ত্রণ বিভাগের চিকিৎসক করোনা সেলের ফোকাল পারসন আবদুর রশিদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘ওই ব্যক্তিকে যখন মুঠোফোনে পাওয়া যাচ্ছিল না, তখন আমরা তাঁকে খুঁজে বের করতে মাঠে নামি। ওই ব্যক্তিকে খুঁজে না পাওয়া গেলে অনেক বড় ধরনের বিপদ হবে। তিনি যেহেতু করোনায় আক্রান্ত, তাই তাঁর অবাধে চলাফেরা করা বিপজ্জনক। তিনি অনেক মানুষকে সংক্রমিত করতে পারেন।’

    আলওয়ালপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ওসমান গনি বলেন, করোনায় আক্রান্তু ওই ব্যক্তি নারায়ণগঞ্জে থাকেন। তিনি একটি জানাজায় অংশ নিতে ২৯ এপ্রিল গ্রামে আসেন। জানাজায় অংশ নিয়ে কয়েক শ মানুষের সঙ্গে মিশেছেন। এখন পুরো ইউনিয়নবাসীই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।

    গোসাইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা সোহেব আলী বলেন, ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে আদালত পর্যন্ত নেওয়ার কাজে পাঁচজন পুলিশ সদস্য যুক্ত ছিলেন। তাঁদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়েছে। তাঁদের নেগেটিভ এসেছে। তারপরও তাঁদের কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। আর পলাতক করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তিকে খুঁজে পেতে পুলিশ সদস্যরা কাজ করছেন।

    জানতে চাইলে সিভিল সার্জন আবদুল্লাহ আল মুরাদ বলেন, ‘করোনায় আক্রান্ত এক ব্যক্তি পালিয়ে গেছেন। তাঁকে খোঁজার জন্য পুলিশকে অনুরোধ করা হয়েছে। তাঁকে খুঁজে না পেলে আমাদের বিপদ বাড়বে। আর গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক নার্সের বাসার কাজের বুয়া করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। ওই বুয়া ও নার্সের সংস্পর্শে হাসপাতালের কোনো যেসব চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী এসেছিলেন, তাঁদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে। তাঁদের কোয়ারেন্টিনে রাখা হবে। তাঁদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হবে।’

    শরীয়তপুরে এখন পর্যন্ত ৩৯ ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে দুজন মারা গেছেন। আর একজন ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। একজন রয়েছেন শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের আইসোলেশনে। আর আক্রান্ত বাকি ব্যক্তিরা কোনো উপসর্গ না থাকায় বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

    স্বপ্নচাষ/আরএস

    Facebook Comments

    বাংলাদেশ সময়: ৪:৪৩ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২০

    swapnochash24.com |

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১  

    সম্পাদক : এনায়েত করিম

    সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: গুরুদাসপুর, নাটোর-৬৪৩০
    ফোন : ০১৫৫৮১৪৫৫২৪ email : swapnochash@gmail.com

    ©- 2020 স্বপ্নচাষ.কম কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত।