• বুধবার ৮ই ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ২৩শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

    শিরোনাম

    স্বপ্নচাষ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করতে ক্লিক করুন  
    কপ-২৬ সম্মেলন শুরু

    এ গ্রহকে বাসযোগ্য করতেই হবে

    সম্পাদকীয়

    ০১ নভেম্বর ২০২১ ৬:০৫ অপরাহ্ণ

    এ গ্রহকে বাসযোগ্য করতেই হবে

    স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে রোববার শুরু হয়েছে ২৬তম বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন (কপ-২৬)। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতৃবৃন্দ, জলবায়ু বিশেষজ্ঞ, মীমাংসাকারীসহ প্রায় ৩০ হাজার মানুষের প্রত্যক্ষভাবে এতে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।

    এবারের সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর ২০৩০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ কমানোর ব্যাপারে নিজেদের পরিকল্পনা উপস্থাপনের কথা রয়েছে।

    ২০১৫ সালে প্যারিস চুক্তিতে সই করা দেশগুলো বৈশ্বিক উষ্ণতা প্রাক-শিল্পায়ন যুগের চেয়ে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি যেন না বাড়ে, তা নিশ্চিতে ব্যবস্থা নিতে একমত হয়েছিল।

    এ চুক্তির আওতায় ২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ কার্যত শূন্যে নামিয়ে আনতে বিভিন্ন দেশকে এখন কার্বন নিঃসরণ ব্যাপক হারে কমাতে হবে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কপ-২৬ এর শীর্ষ বৈঠকে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে।

    এবারের সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের পাশাপাশি ৪৬ জাতির ফোরাম সিভিএফের (ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরাম) নেতৃত্ব দেবেন। বাংলাদেশ বর্তমানে সিভিএফ সভাপতি।

    ‘সিভিএফ-এর অন্তর্ভুক্ত দেশের মানুষসহ সংশ্লিষ্ট সবাই বিশেষভাবে আশাবাদী যে ‘সিভিএফ-কপ-২৬ লিডার্স ডায়ালগ’ থেকে জলবায়ু পরিবর্তন রোধ, অভিযোজন ও অর্থায়নের লক্ষ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসবে।

    ১৯৯৫ সালে জাতিসংঘের উদ্যোগে প্রথম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর এটি হলো ২৬তম সম্মেলন। বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন যখন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, তখন বিশ্ববাসীর সামনে জলবায়ু পরিবর্তনের অনেক কুফল বিশেষভাবে দৃশ্যমান।

    সম্প্রতি কানাডায় ঘটে গেছে ইতিহাসের সর্বোচ্চ দাবদাহ। ইউরোপের বন্যাও নজিরবিহীন। জার্মানির পশ্চিমাঞ্চলে রেকর্ড পরিমাণ অতি বৃষ্টি হয়েছে, সৃষ্টি হয়েছে বন্যার। বন্যায় প্লাবিত হয়েছে নেদারল্যান্ডস, সুইজারল্যান্ড ও বেলজিয়াম। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া, উত্তর আমেরিকার কিছু অঞ্চল, সাইবেরিয়া, ইউরোপের দক্ষিণাঞ্চলে দাবানলের মাত্রা বেড়েছে।

    বিশ্বের ১৩৪টি দেশ এখন দাবানলের হুমকির মুখে যা নতুন রেকর্ড। ২০২০ সালে পৃথিবীর প্রায় ২০ শতাংশ এলাকা খরার সম্মুখীন হয়েছে। এর সবই হয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে। পৃথিবীর তাপমাত্রা দ্রুতহারে বেড়ে চলেছে। গত ৫ বছর ছিল বিগত ১৫০ বছরের তুলনায় উষ্ণতম সময়। ১৯০১ সালের তুলনায় সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির হার তিনগুণ বেড়েছে।

    এ অবস্থা চলতে থাকলে বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন যে, এ শতাব্দীর শেষ নাগাদ সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা প্রায় দুই মিটার বৃদ্ধি পাবে। ফলে ব্যাপক প্লাবনের মুখে পড়তে হবে সমুদ্র অঞ্চলে বসবাসকারী মানুষদের। মানুষ বাস্তুচ্যুত হবে। এখন দাবি উঠেছে, যেসব দেশের কারণে জলবায়ু শরণার্থীর সৃষ্টি, সে সব দেশকেই তাদের দায়িত্ব নিতে হবে।

    জলবায়ুর পরিবর্তনের মূল কারণ অতিরিক্ত কার্বন নিঃসরণ। এ সংকটের শুরু শিল্পযুগের সূচনা থেকে। যেসব দেশ যতখানি শিল্পোন্নয়ন ঘটিয়েছে, সে সব দেশ ততখানিই পরিবেশকে দূষিত করেছে। কিন্তু এর কুফল বেশি ভোগ করছে শিল্পে পিছিয়ে থাকা দেশগুলো।

    পরিবেশের এ বিপর্যয় মোকাবিলার দায়ভার ধনী দেশগুলোর ওপরই বেশি বর্তায়। দুঃখজনক হলো, ধনী দেশগুলো এ বিষয়ক প্রতিশ্রুতি রক্ষায় এখনো আন্তরিক নয়। বিজ্ঞানীরা বলছেন, যদি পৃথিবীকে ভারসাম্যপূর্ণ বা সহনীয় মাত্রায় রাখতে হয় তাহলে বৈশ্বিক ঊষ্ণতাবিষয়ক প্যারিস চুক্তির লক্ষ্য অর্জন করতেই হবে।

    এ গ্রহকে বসবাস উপযোগী রাখতে বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে সবাইকে ঐকমত্যে পৌঁছাতে হবে এবং সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে দায়িত্বশীলতা ও আন্তরিকতার পরিচয় দিতে হবে।

    স্বপ্নচাষ/একে

    Facebook Comments Box

    বাংলাদেশ সময়: ৬:০৫ অপরাহ্ণ | সোমবার, ০১ নভেম্বর ২০২১

    swapnochash24.com |

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০
    ১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
    ১৮১৯২০২১২২২৩২৪
    ২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
    advertisement

    সম্পাদক : এনায়েত করিম

    প্রধান কার্যালয় : ৫৩০ (২য় তলা), দড়িখরবোনা, উপশহর মোড়, রাজশাহী-৬২০২
    ফোন : ০১৫৫৮১৪৫৫২৪ email : swapnochash@gmail.com

    ©- 2021 স্বপ্নচাষ.কম কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত।